জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করার সিদ্ধান্তে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শুধু কাশ্মির নয়, আসামের এনআরসি নিয়েও ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন তিনি।

গতকাল (০২ সেপ্টেম্বর) সোমবার স্পষ্ট করে ইমরান খান পাকিস্তানের পরমাণু বোমার ব্যবহার নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছেন।  তিনি বলে দিলেন, তার দেশ প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না।

কাশ্মির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে লাহোরের এক অনুষ্ঠানে বললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তবু ভারতকে নিশানা জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার এবং রাজ্যকে দু-টুকরো করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভাজন নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেই ঠান্ডা লড়াই গড়ায় জাতিসঙ্ঘ পর্যন্ত।

পূর্ব লাহোরে শিখ সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই পারমাণবিক শক্তিতে বলীয়ান। আমাদের মধ্যে উত্তেজনা ছাড়ালেও পাকিস্তান কখনো আগে পারমানিক শক্তি প্রয়োগ করবে না। 'নো ফার্স্ট ইউজ' নীতি তার সাফ কথা, বিশ্ব বিপদে পড়তে পারে, এমন কোনো কাজ পাকিস্তান করবে না।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্বের ক্ষতিকারক কোনো পদক্ষেপ প্রথম নেয়া হবে না।

গত মাসে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কয়েক দশক ধরে ভারত 'নো ফার্স্ট ইউজ' নীতি ব্যবহার করছে। সরে আসার বার্তা পাকিস্তানের

তিনি জানান, পরিস্থিতির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে মত ও পথ পরিবর্তন করতে হয়। এর মাধ্যমে তিনি পরমাণু অস্ত্র প্রথমে ব্যবহার না করার ভারতীয় নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর পাকিস্তান এ ধরনের কোনো কথা বলেনি। তবে ভারতের সরে আসার ইঙ্গিতের পর পাকিস্তান এবার বলল, তারা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

এরপর থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার। তবে ধারা বাতিলের একদিন পর থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করেছে কাশ্মীরিরা। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই নিহত হয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময়ই বিক্ষোভের কথা অশিকার করে আসছে। এর ফলে কাশ্মিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য গোলযোগ প্রতিহত করতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়।

এমবি