নিজের পোষা প্রাণীকে কম-বেশি সবাই ভালোবাসে। কোলে তুলে চুমু খায়, আদর করে। এমনকি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় পাশে রাখে। কিন্তু সেই পোষা প্রাণীটি যদি হয় সাপ তাহলে এর প্রতি কীভাবে ভালোবাসা দেখাবে তার মালিক!

বিষাক্ত হোক আর না হোক যে কোনো সাপের কথা শুনলে সবাই একটু নড়েচড়ে বসে। আর পৃথিবীর সব থেকে বিষাক্ত সাপ পাইথন ও ভয়াবহ সাপ অ্যানাকোন্ডাসহ ১৯ টি সাপকে পোষা গৃহপালিত প্রাণী নয়, পরিবারের সদস্যর মতো পালছেন যুক্তরাজ্যের পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের ব্রেডফোর্ড শহরের রব কাউন ও স্টেসির পরিবার।                      

রব কাউন ও স্টেসির ২ বছরের ছোট্ট মেয়ে আলিসা নির্ভয়ে অস্টিন নামের ১৫ ফুট লম্বা ওই বারমিজ পাইথনটিকে জড়িয়ে খেলছে, আদর করছে। সাপ নিয়ে একটুও ভীত নয় আলিসা। এমনকি তার বাবা-মা। বরং মেয়ে আলিসা তাদের ১৯টি সাপের মধ্যে সব থেকে প্রিয় পাইথন অস্টিনকে ভালোবাসে বলে তারা বেজায় খুশি।

১৯ সাপের মালিক রব বলেন, এই সাপগুলো আমাদের পরিবারের সদস্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবে না যে সাপগুলোর আচরণ কতটা নিরাপদ। প্রতি রাতে আলিসা ও ১০ মাস বয়সী ছেলে কেমেরনকে ঘুম পাড়িয়ে আমরা সাপগুলোকেও গুডনাইট বলতে যাই।

শুধু আলিসাই নয়, ১০ মাস বয়সী ক্যামেরনও অস্টিনকে নিয়ে দিব্বি আরামে খেলে। অস্টিনের লেজ ধরতে চায়, এর পিঠে উঠতে চায়।                     

ঘরের মধ্যে সাপগুলো পরিবারের সদস্যর মতোই চলা-ফেরা করে। অন্যান্য সাপগুলোকে ইঁদুর খাইয়ে রাখলেও অস্টিন ও ১৪ ফিট লম্বা অ্যানাকন্ডাকে তুষ্ট রাখতে খরগোশ ও গিনিপিগ খাওয়ায় রব-স্টেসি।

রব জোর দিয়ে বলেন, সাপ অবশ্যই একটি ভালো পোষা প্রাণী হতে পারে। এর অবিবেচক মালিকরা সাপ নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ায়। যে কোনো পোষা প্রাণীই কামড় দিতে পারে।

রব আরো বলেন, আমার ছেলে-মেয়েরা সাপ নিয়ে খেলায় আমরা মোটেই আতঙ্কিত নই।

ইআর