ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝির একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার তিনি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘উপনির্বাচনের সময় একটি মন্দিরে পুজো দেয়ার জন্য গিয়েছিলাম। তারপর ওই মন্দিরটি ধুয়ে শুদ্ধ করা হয়। মন্দিরের বিগ্রহ টিকেও ধোয়া হয়।’

সংবাদে প্রকাশ, ‘বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে মধুবনি জেলার একটি মন্দিরে পুজো দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি। পুজো শেষে তার কনভয় এলাকা থেকে বেরিয়ে গেলে গোটা মন্দির চত্বর ধুয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। কারণ, নিম্নবর্গ মহাদলিত সম্প্রদায়ের সদস্য মুখ্যমন্ত্রীর পদার্পণে দেবস্থান অপবিত্র হওয়ায় তা দ্রুত সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়ে। একই কারণে স্নান করিয়ে শুদ্ধ করা হয় মন্দিরের বিগ্রহদের।’

এতদিন কথাটা অবশ্য চাপাই ছিল। ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার তা ফাঁস করে দেন মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি নিজেই। তিনি বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভোলা পাসোয়ান শাস্ত্রীর জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী জাতপাত প্রথার সমালোচনা করে বলেন, ‘বিহারের উপনির্বাচনের সময় আমি মধুবনী গিয়েছিলাম। খুব উৎসাহের সঙ্গে সেখানকার লোকেরা আমাকে একটি মন্দিরে নিয়ে যায়। আমি এটা জানতাম না, পরে জেডিইউ নেতা ও রাজ্যের খনিজ মন্ত্রী রামরমন জী আমাকে বলেছেন, আপনি চলে যাওয়ার পর মূর্তি কে ধুয়ে ফেলা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, চিন্তা করে দেখুন আমরা কোথায় আছি! যখন মানুষ কোনো কাজের জন্য আমাদের কাছে আসে তারা পা ছুঁয়ে প্রণাম করে। তপসিলি জাতির মানুষরা পা ছুঁয়ে প্রণাম করে না। কিন্তু যারা কাজ নেয়ার জন্য আসে তারা প্রথমেই ষষ্টাঙ্গ হয়ে যায়। যদিও তাদের মনের মধ্যে রয়েছে কত মিথ্যা, তা ওই ঘটনা থেকে বুঝতে পেরেছি।

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে ‘নবভারত টাইমস’নামে সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, “বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি বলেছেন, দলিতদের নিয়ে মানুষের চিন্তা ভাবনা আজও বদলায় নি। দলিতদের আজও ‘অচ্ছুত’মনে করা হয়ে থাকে। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও মানুষ আমাকে অচ্ছুত বলে মনে করে।’তিনি বলেন, উচ্চবর্ণের মানুষরা কাজ হাসিলের জন্য সবার আগে এসে আমাদের পায়ে পড়ে। কিন্তু তাদের মনের মধ্যে রয়েছে কদাকার।”

তবে জাত-পাতের এহেন বিচারে দৃশ্যত অপমানিত বোধ করেননি মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি। তিনি এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগও করেননি মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের ঘনিষ্ঠ জিতন রাম মাঝিকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসায় তাঁর দল জেডিইউ। তথাকথিত পিছিয়ে পড়া ‘মহাদলিত’সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ার সুবাদে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে নিম্নবর্গীয় মানুষদের উন্নয়নে চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এদিকে মন্দির পরিষ্কার করার বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কানে তোলেননি বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী রাম লখন রাম রমন।

রাজ্যের বিজেপি প্রেসিডেন্ট মঙ্গল পাণ্ডে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘এটা দুঃখজনক ঘটনা। এসবের আমি বিরোধিতা করি, কারণ মন্দির সকলের জন্য।’ সূত্র: আইআরআইবি

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ