উত্তর কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা ক্ষুদ্র পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন এমনটাই দাবি করেছেন দেশেটির নেতা কিম জন উন। পিয়ংইয়ং-এর এ দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে তা দক্ষিণ কোরিয়া ও তাদের মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তবে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা দেশটির এ ধরনের প্রযুক্তি সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বুধবারে একটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনকালে কিম জন উন দাবি করেন, এসব যুদ্ধাস্ত্র ব্যালাস্টিক মিসাইল বহনে সক্ষম। তার বক্তব্যের সমর্থনে বেশকিছু ছবিও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এসব ছবি থেকে এ দাবির সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।
পিয়ংইয়ং-এর সরকারি সংবাদমাধ্যমে অবশ্য এর আগেও এ ধরনের দাবি করা হয়েছে। তবে কিম জন উনের মুখ থেকে এ ধরনের ঘোষণা এটাই প্রথম।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ'কে কিম বলেন, পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রকে আধুনিক করা হয়েছে, যা ক্ষুদ্র ব্যালাস্টিক মিসাইলেও স্থাপন করা যাবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক কার্যক্রমকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এ জন্য আলোচনা থেকে শুরু করে অবরোধ আরোপ পর্যন্ত নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে দেশটির অবস্থানের বিশেষ পরিবর্তন হয়ইনি বরং নতুন করে একের পর এক তারা তাদের এসব অস্ত্রের পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে। তারা পরমাণু অস্ত্রের সম্ভার বাড়িয়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া চাইছে, উত্তর কোরিয়া নিজে থেকে শর্তহীনভাবে তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করুক। কিন্তু পিয়ংইয়ং বারবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করার কোন ইচ্ছা তার নেই।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক পারমাণবিক পরীক্ষা ও দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশী ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়া স্পষ্টতই শত্রুদের যৌথ সামরিক পরমাণু যুদ্ধের অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা দেয়।
এদিকে পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত দেশ চীন।
বিবিসি, রয়টার্স এর সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, চীন তাদের একটি বন্দরে উত্তর কোরিয়ার জাহাজ ভেড়া নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
এমআইএস।





