পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলদলীয় সংসদ সদস্য তাপস পালের ‘ধর্ষণ করিয়ে দেয়া’র হুমকি নিয়ে সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মেদিনীপুর শহরের উপ-পুরপ্রধান জিতেন্দ্রনাথ দাস এক নারীকে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছেন। শুধু ধর্ষণ নয়, মায়ের সামনেই মেয়েকে খুন করার হুমকির অভিযোগ উঠলো ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।

শহরের শরৎপল্লির বাসিন্দা এক বিধবা অভিযোগ করেন, তার একটি জমি বিক্রি হয়েছিল ১৫ লাখ টাকায়। কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে অর্ধেক। বাকি টাকা চেয়েও না পাওয়ায় তিনি ও তার মেয়ে গত ২১ আগস্ট জিতেন্দ্রনাথবাবুর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। জিতেন্দ্রনাথবাবু টাকা ফেরানোর ব্যবস্থাতো করেনইনি বরং ওই মহিলার তরুণী মেয়েকে ধর্ষণ ও খুন করার হুমকি দেন!

ছাব্বিশ বছর বয়সি ওই তরুণী জানান, “গত ২১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) আমি আর মা জিতেনবাবুর বাড়ির অফিসে যাই। উনি আমাদের ঢুকতে দেননি। বাইরে এসে বলেন, ‘সব টাকা তো পেয়ে গিয়েছেন। আর কী চাই?’ বকেয়া টাকার কথা বলায় উনি ক্ষেপে গিয়ে মাকে বলেন, ‘এই যে মেয়েকে দেখছেন, বাড়াবাড়ি করলে মেয়ের গায়ের জামাকাপড়টুকুও থাকবে না! ওকে রেপ করে মার্ডার করিয়ে দেব!’ মেয়েটির দাবি, জিতেনবাবুর ভাই সুকুমার দাসও তাকে আর তার মাকে মেরে পুঁতে ফেলবেন বলে হুমকি দেন।

জিতেন্দ্রনাথবাবু অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “ওই জমি কেনাবেচার ব্যাপারে তিনি জড়িত ছিলেন না। অভিযোগকারিণী মা-মেয়ের সঙ্গে তাঁর ২১ তারিখ দেখাই হয়নি। হুমকি দেয়া তো দূরের কথা।”

কোলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২১ তারিখই মা-মেয়ে লিখিত অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন কোতোয়ালি থানায়। পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। পর দিন, শুক্রবার জেলার পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের কাছে গিয়ে বছর পঞ্চাশের ওই মহিলা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগপত্রে জিতেনবাবুর পাশাপাশি নাম রয়েছে তাঁর ভাই সুকুমার দাস, পড়শি সলিল চৌধুরী এবং ওই জমিটির ক্রেতা সহদেব চৌরা-র। তবে অভিযোগপত্রে শুধু টাকা না পাওয়া এবং হুমকির কথাই লেখা হয়েছে।

জিতেনবাবু যে ধর্ষণ ও খুন করানোর হুমকিও দিয়েছেন, সে কথা অভিযোগপত্রে লেখা নেই কেন- জানতে চাইলে মেয়েটি দাবি করেন, “মা নিরক্ষর। আমিও ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছি। অভিযোগ লেখানোর জন্য কার্তিকচন্দ্র দাস নামে এক মুহুরির সাহায্য নিয়েছিলাম। আমরা সব বললেও তিনিই ধর্ষণ ও খুনের হুমকির কথা উল্লেখ করতে ভুল করেছেন।”

তবে মা-মেয়ের আইনজীবী শুভজিৎ রায়ের বক্তব্য, “তাড়াহুড়ো করে লিখতে গিয়ে মুহুরি কিছু কথা বাদ দিয়েছেন। এখন তারা নতুন করে সরাসরি আদালতে অভিযোগ জানাবেন বলে ঠিক করেছেন। সেখানে ধর্ষণ-খুনের হুমকির কথা লেখা থাকবে।“

এদিকে, রোববার সকাল থেকে সংবাদমাধ্যমে খবরটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। বিকেলে ওই মহিলার বাড়িতে গিয়ে কোতোয়ালি থানার আইসি সুশান্ত রাজবংশী এবং অফিসার মৃণাল শিকদার অভিযোগপত্রের একটি প্রতিলিপি নিয়ে যান। পুলিশ সুপার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি এ সম্পর্কে বলেন, “কী ঘটেছে ভাল করে না জেনে মন্তব্য করা উচিত হবে না। ওই জেলায় আমাদের দলের নেতা দীনেন রায়, প্রদ্যোৎ ঘোষকে বলা হয়েছে বিষয়টি জেনে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে। তার ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”

তৃণমূলের জেলা সভাপতি দীনেনবাবু জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দলের শহর কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন নদীয়ায় দু’টি জনসভায় বক্তৃতা দেয়ার সময় অভিনেতা তাপস পাল বলেন, ‘সিপিএম যদি তৃণমূলের কারও গায়ে হাত দেয়, তাদের গুষ্টিকে আমি.. যা তা করে দিয়ে চলে যাব। আমার ছেলেদের ঢুকিয়ে দেব, রেপ করে চলে যাবে। রেপ করে চলে যাবে’।

তাপস পালের ঘটনার পরে গত সপ্তাহে পূর্ব মেদিনীপুরের সুনিয়ায় সিপিএমের এক ঘরছাড়া নেতার স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির এক নেতাসহ দলের ১২ কমী-সমর্থকের বিরুদ্ধে। এ বার হুমকির দেয়ার অভিযোগ উঠল পুর উপপ্রধানের দিকে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিং বলেন, “তাপস পাল সংস্কৃতিই রাজ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল! এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে নৈরাজ্য ঠেকানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সূত্র: আইআরআইবি

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ