ভারতে ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ উপদ্রুত অঞ্চলে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দেয়ার দুর্গতদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শঙ্কিত হয়ে পড়া দুর্গতরা একটি ত্রাণবাহী ত্রাণবাহী ট্রাক লুট করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার হেলিকপ্টার যোগে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য তিনি ১০ হাজার কোটি রুপির তহবিল মঞ্জুর করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যার উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে, এতে রাজ্যদুটিতে অন্তত ২৫ জন নিহত হন। এদের মধ্যে অন্ধ্রে নিহত হয়েছেন ২২ জন।
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ওই এলাকার কয়েক লাখ মাটির ও কুঁড়ের ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ধান, কলা ও আখ চাষের ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
বন্দর শহর বিশাখাপত্তমের বাসিন্দারা তিনদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ ব্যবস্থায় চালু করা শহরটির অল্প কয়েকটি এটিএম বুথের বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে অর্থ তুলছে লোকজন, দোকানপাট ও পেট্রলপাম্প খুলতে শুরু করেছে।
দুধ ও পানির তীব্র চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ায় কোথাও কোথাও লুটের ঘটনা ঘটেছে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তেজিত জনতা সরকারি ত্রাণের একটি ট্রাকে চড়াও হয়ে খাদ্য ও পানি লুট করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি পেটা করছে।
রাস্তার পাশের একটি মুদি দোকানের পণ্য বহনকারী ৫৫ বছর বয়সী দিনমজুর অমরনাথ বলেন, “গতকাল ২০ রুপি মূল্যের আধ লিটার দুধের একটি প্যাকেট ৫০ রুপি দিয়ে কিনেছি।”
ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির পুরো ছবি ঘটনার তিনদিন পরও পরিষ্কার হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এখনও রাস্তায় রাস্তায় শত শত উপড়ে পড়া গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে, টেলিফোন সংযোগও বিকল হওয়ায় কতো লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তার সঠিক হিসাব বের করতে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
“এটা ছিল কৃষকদের শেষ ফসল ঘরে তোলা সময়, তাই তাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষির ক্ষতি ও সম্পদহানি নির্ধারণ করতে আমরা যথাযথ জরিপ পরিচালনা করবো,” বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
“ঝড়ের এই ক্ষতি শিগগিরই কাঁটিয়ে উঠতে পারবো, এই বিশ্বাস আমার পুরোপুরি আছে। খুব শিগগিরই সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের ক্ষয়ক্ষতি কাঁটিয়ে উঠার বিষয়টি দেখবো আমরা,” বলেন তিনি।
উড়িষ্যা রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিক জরিপে ৮০ হাজার মাটির ও কুঁড়ের ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে, এছাড়া রাস্তা, কালভার্ট ও সেতুর মতো অবকাঠামো মেরামতের প্রয়োজন হবে।
অন্ধ্রের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে শস্য খেত নষ্ট হওয়ায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শত শত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাছ ধরার নৌকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
জেআই





