বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ডলার চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতারক চক্রের 'দাবা খেলায়' ঘুঁটির মতো ব্যবহার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এ কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত মায়া সান্তোস-দেগুইতো।
মঙ্গলবার দৈনিক ইনকোয়ারারের অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপাইনে সিনেট কমিটির চতুর্থ দিনের শুনানিতে অংশ নিয়ে এ দাবি করেন রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগুইতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে অংশ নিয়ে মঙ্গলবার মায়া সান্তোস বলেন, ''আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতারক চক্রের 'দাবা খেলায়' আমি ঘুঁটির মতো ব্যবহার হয়েছি।''
চতুর্থ দিনের এ শুনানিতে অংশ নেন অর্থ চুরির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ও আলোচিত ব্যবসায়ী কিম অং। এসময় তিনি আরও ৯৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন।
আজকের শুনানিতে লিখিত বক্তব্যে মায়া সান্তোস বলেন, 'অর্থপাচারের এ ঘটনায় জড়িত অন্যরা আমার ওপর দোষ চাপিয়েছেন। আর ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকতে পারেন তারা শুধু সম্পদশালীই নন; বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে তাদের প্রবল ক্ষমতা ও প্রভাব।'
বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় কোনো চক্রান্ত হয়ে থাকলে সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও শুনানিতে দাবি করেন মায়া সান্তোস।
তিনি বলেন, 'রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বড় বড় ব্যক্তিদের মধ্যে এই কমিটি যে 'গ্রান্ডমাস্টার'কে খুঁজছে সে আসলে আমি নই।'
এদিকে, সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির চতুর্থ দিনের শুনানিতে ব্যবসায়ী কিম অং জানান, ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তিনি আরও ৯৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সিনেট কমিটির কাছে জমা দেবেন।
এর আগে সিনেট কমিটির প্রথম দুই দফা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দেগুইতো। তবে গত সপ্তাহে তৃতীয় দিনের শুনানিতে প্রধান অভিযুক্ত কিম অং প্রথমবারের মতো হাজির হন। সেদিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন দেগুইতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে হ্যাকারদের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা দেশে প্রথম জানাজানি হয় মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। চুরি হওয়া ওই অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিপাইনের দৈনিক দ্য ইনকোয়েরার পত্রিকায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার চুরির খবর প্রকাশ করে।
ওই খবরে বলা হয়, দেশটির মাকাতি শহরে অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের একটি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে আসে। চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়। হ্যাকার দল ওই অর্থ প্রথমে ফিলিপাইনে পাচার করে।
ওএফ





