ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রামকে দোষী সাব্যস্ত করল বিশেষ সিবিআই আদালত।
এদিনের রায় দানকে ঘিরে ‘নাটক’ কিছু কম হয়নি। বেলা আড়াইটে নাগাদ রায় দানের কথা থাকলেও ৩০-৪৫ মিনিট এই নির্দেশ গোপন রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। ডেরা সদস্যরা রাস্তায় নেমে উৎসবে শামিল হন। কিন্তু সময় এগোতেই ছবিটা পালটে যায়।
২০০২-এর একটি ধর্ষণের মামলার অভিযোগে ডেরা সাচা সওদার প্রধান গুরমিত রামের বিরুদ্ধে তদন্তের ভার পায় সিবিআই। শুক্রবার পঞ্চকুলায় বিশেষ সিবিআই আদালতে এই মামলার শুনানির আগে কার্যত দুর্গের চেহারা নেয় হরিয়ানা ও পাঞ্জাব। নামানো হয় ব্যাপক পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ২০০ বার শুনানি হওয়ার পর এদিন বিতর্কিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলায় রায় দেয় আদালত।
২০০২ সাল। চণ্ডীগড়ের স্থানীয় হিন্দি সংবাদপত্র ‘পুরা সাচ’-এ প্রকাশিত হয় এক বেনামি চিঠি। সেই চিঠি থেকেই প্রথম জানা যায়, নিজের আশ্রমে কীভাবে দিনের পর দিনে অবৈধ যৌনাচার চালাচ্ছেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং। প্রকাশ্যে আসে বিশেষ ‘গুহা’য় টিভি দেখতে দেখতে পাশে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে মহিলা ভক্তদের যৌন নিগ্রহ ও ধর্ষণ করার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম সিংয়ে কুর্কীতি ফাঁস করার চরম মাসুল দিতে হয় সাংবাদিক রাম চন্দর ছত্রপতিকে। মাস খানেক বাদে নিজের বাড়িতেই তাঁকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। বাবার খুনের সুবিচারের জন্য ১৫ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর ছেলে।
ঘটনাচক্রে, সিবিআইয়ের যে বিশেষ আদালতে গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা, সেই আদালতেই সাংবাদিক খুনের মামলাটিও চলছে। নিহত সাংবাদিকের ছেলে বলছেন, ‘প্রায় ২৮ দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছিলেন বাবা। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকদের কাছে বয়ান দিয়েছিলেন তিনি। বয়ানে ডেরা সাচা সওদা সংগঠনের প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং-কে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু, পুলিশ এফআইআর তার নাম ঢোকাতে চায়নি। সেই থেকে আমার আইনি লড়াই চলছে।’ ২০০৫ সালে সিবিআই তদন্ত চেয়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে আবেদন করেন মৃতের পুত্র।
বস্তুত, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের কাছে চিঠি লিখে ডেরা প্রধান গুরমিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন এক মহিলা। সেই চিঠি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, সিবিআই ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম সিংয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নেয়নি কোনও পক্ষই। শেষপর্যন্ত, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেয়।
এএইচ





