মিয়ানমারে ‘নিরাপদ অঞ্চল’প্রতিষ্ঠার দাবি নাকচ করে দিয়ে দেশটির স্টেট কাউন্সিলরের কার্যালয়ের মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সোয়ে জানান, এ ধরনের অঞ্চলের কোনো প্রয়োজন বা কার্যকারিতা নেই।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের পঞ্চম দিনে গতকাল (২৯ সেপ্টেম্বর) শনিবার তিনি এই কথা বলেন।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে কিয়াও টিন্ট সোয়ে জানান, ২০১৭ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা-আসিয়ানসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে মিলে মিয়ানমার কাজ করছে জানিয়ে কিয়াও টিন্ট সোয়ে বলেন, “বাছাইকৃতদের (রোহিঙ্গা) প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং যারা দেশে ফিরবে, তাদের জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করাকেই এ মুহূর্ত আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”
কিয়াও টিন্ট সোয়ে জানান, রাখাইন রাজ্য থেকে যেসব মানুষকে উৎখাত করা হয়েছিল, তাদের ‘ভিন্ন আইনি পরিচয়’রয়েছে।
মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য যেসব শরণার্থী মনোনীত হবে, তাদের নাগরিক পরিচয়পত্র দেওয়া হবে বলে মিয়ানমারের মন্ত্রী জানান।
কিয়াও টিন্ট সোয়ে আরও জানান, আর বাদবাকিদের যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অভিবাসীদের ‘গ্রিন কার্ড’দেয়, সে আদলে জাতীয় প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে।
রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমার সরকার কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে কিয়াও টিন্ট সোয়ে বলেন, “২০১৬ ও ২০১৭ সালে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) জঙ্গিগোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলার জেরেই বর্তমান মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”
বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ শরণার্থী স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে এসেছে জানিয়ে কিয়াও টিন্ট সোয়ে বলেন, “আরসার হত্যাকাণ্ড ও হুমকিসহ নানা বাধা সত্ত্বেও তারা ফিরে এসেছে।”
তবে মিয়ানমারে ‘নিরাপদ অঞ্চল’প্রতিষ্ঠার দাবি নাকচ করে দিয়ে কিয়াও টিন্ট সোয়ে জানান, এ ধরনের অঞ্চলের কোনো প্রয়োজন বা কার্যকারিতা নেই।
বাংলাদেশকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে কিয়াও টিন্ট সোয়ে বলেন, “বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ইস্যুটি সমাধানে এটাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য উপায়।”
এমবি





