ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) দমন করতে ইরাক ও সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওবামা প্রশাসন। আর এই আক্রমণের অনুমতি নিতে কংগ্রেসের অনুমতি চেয়েছে হোয়াইট হাউজ। যদিও পাঁচ মাস ধরে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই বিমান হামলার অনুমতি নেয়া হয়নি কংগ্রেস থেকে। আর এই অনুমতি না নেয়ার বিষয়টিই কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে ওবামার জন্য। আর তাই কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য শুরু হয়েছে ওবামা প্রশাসনের তৎপরতা।

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া কীভাবে গত পাঁচ মাস ধরে ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এই বিষয়টি নিয়ে একটি বুধবার একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমসের অনলাইন ভার্সনে।

এত দেরিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টির অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিতর্ক হলে তা আলোর মুখ নাও দেখতে পারে। কেননা সামরিক এই হস্তক্ষেপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং উপায়ই বা কী হবে, সামরিক হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে।

তিন বছরের জন্য আইএস বিরোধী সামরিক অভিযানের সম্মতি চাচ্ছেন ওবামা। সামরিক অভিযানের বিষয়টিকে তিনি অনুমোদন নিতে চান; বিষয়টিকে তিনি অমীমাংসিত রাখতে চাচ্ছেন না। কেননা, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এসে আইএসের বিরুদ্ধে চলা গত পাঁচ মাস ধরে অনুমোদনহীন বিমান হামলার ব্যাপারে ওবামাকে অভিযুক্ত করতে পারেন। গত পাঁচ মাস ধরে চলা অনুমোদনহীন এই বিমান হামলাকে অবৈধ প্রমাণ করতে পারলে মারাত্মকভাবে ফেঁসে যেতে পারেন ওবামা। আর তাই এখন বিষয়টির অনুমোদন নিতে উঠেপড়ে লেগেছে ওবামা প্রশাসন।

কংগ্রেসে পাঠানো ওবামা প্রশাসনের আবেদনে স্থল অভিযান সীমিত পর্যায়ে রাখার কথা বলা আছে। সম্পাদকীয়টিতে বলা হয়েছে, ইরাক তথা ওই অঞ্চলে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ দেখতে চায় না মার্কিনরা। সামরিক অভিযানের বিষয়টিকে যদি হোয়াইট হাউজ ও কংগ্রেস অনুমোদন না দেয় তাহলেই ভালো হবে মত দেয়া হয়েছে সম্পাদকীয়তে।

কংগ্রেসে পাঠানো আবেদনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে- দীর্ঘমেয়াদে সামরিক অভিযান পরিচালনা, সিরিয়া ও ইরাকের যেসব অঞ্চলে আইএসের দখলদারিত্ব বজায় রয়েছে সেসব অঞ্চলে অভিযান চালাতে চায় আমেরিকা। এ ছাড়া, আইএসের সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত সংঘবদ্ধ ব্যক্তিবর্গ ও শক্তির বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। আর এর মাধ্যমে একটি ব্যয়বহুল সামরিক অভিযানের দিকটিই নির্দেশিত হয়েছে। আবেদনের এই বিষয়টি স্থল অভিযান সীমিত পর্যায়ে রাখার প্রস্তাবের স্ববিরোধী। কেননা এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে তা আর সীমিত পর্যায়ে রাখা সম্ভবপর হবে না।

ওবামা প্রশাসন সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা হিসেবে ২০০১ সালে আফগানিস্তান আক্রমণ বা ২০০২ সালে ইরাক অভিযানের ব্যাপারে কংগ্রেসের অনুমোদনের বিষয়টিকে তুলতে পারে। ওবামা এখন ওই দুটি আইনের ওপরই নির্ভর করছেন। যদিও তা তৎকালীন সময়ের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

ওবামা যদি আফগানিস্তান ও ইরাক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদনের বিষয়টিকে আইনি ভিত্তি হিসেবে ধরে থাকেন তাহলে বিশ্বের যেকোন স্থানে হামলা বা অভিযানের অনুমোদন পেয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। আর এই বিশ্বব্যাপী এই অভিযানের শুরুটি হয়েছে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের বিরুদ্ধে।

বিষয়টির অনুমোদন নিয়ে ওবামার নিজের দল ডেমোক্রেটদের মধ্যে থেকেও কেউ কেউ আপত্তি তুলতে পারেন। তবে, রিপাবলিকানদের অনেকেই বিষয়টিতে ওবামাকে সমর্থন দিবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওবামা তার আবেদনে আইএসকে মধ্যপ্রাচ্য এবং এমনকি আমেরিকার জন্যও হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

এমএ