তিনি বলেছেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যতজন ওয়াগনার সেনা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৯০ ভাগই জেল খাটা আসামী ছিলেন। যাদের ৬ মাসের চুক্তিতে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে এসেছিলেন ওয়াগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভগিনি প্রিগোরিজিন। জন কিরবি আরও দাবি করেছেন, শুধুমাত্র ডিসেম্বর থেকেই এ পর্যন্ত ৫ হাজার সেনার মৃত্যু হয়েছে। মূলত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুত শহরে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ গেছে তাদের।
কিরবি আরও জানিয়েছেন, বড় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও ওয়াগনার গ্রুপ বাখমুত শহরে গত কয়েকদিনে সাফল্য পেয়েছে। তবে এসব সাফল্য কয়েক মাসের তীব্র লড়াই ও ‘চরম মূল্যের মাধ্যমে এসেছে।’‘খুব সম্ভবত তারা (ওয়াগনার গ্রুপ) বাখমুত দখল করায় সফলতা পাবে। কিন্তু এটির সত্যিকারের কোনো মূল্য নেই। কারণ বাখমুত কৌশলগতভাবে এতটা গুরুত্বপূর্ণ না।’
মার্কিন এ কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন, জেল খাটা আসামীদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধাস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে ওয়াগনার গ্রুপ। এমনকি এখনো জেলের আসামীদের নিয়ে আসছে তারা। যদিও ওয়াগনারের প্রতিষ্ঠাতা কয়েকদিন আগে দাবি করেছেন, তারা আসামীদের আর নিয়োগ দিচ্ছেন না।
অপরদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গত বছর হামলা করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ লাখ রুশ সেনা ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের জন্য দ্রুত আরও অস্ত্র পাঠাতে পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একইসঙ্গে বিজয় লাভ না করা পর্যন্ত মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলা যুদ্ধের বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
ইউক্রেনে রুশ অভিযানের একবছর পূর্ণ হতে আর ৬ দিন বাকি। তার আগে ইউক্রেনজুড়ে হামলার গতি বাড়িয়েছে রুশ বাহিনী। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলনস্কির সরকার।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে বিজয়লাভের জন্য হামলা চালাতে নতুন নতুন পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। তাদের হামলায় জরুরি অবকাঠামোর পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বক্তব্য রাখেন। তারা ছাড়াও ছিলেন আরও অনেকে।
রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, ‘যা করার আমাদের দ্রুত করতে হবে। আমাদের গতি দরকার। আমাদের চুক্তির গতি, সামরিক সহায়তার গতি। রুশ হামলার সীমিত করার গতি। গতির কোনও বিকল্প নেই। কারণ এর ওপর আমাদের জীবন নির্ভর করছে।’ভাষণে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিলম্ব সব সময়ই হচ্ছে, যা বড় ধরনের ভুল।’
জেলেনস্কি স্বীকার করে বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে রুশ বাহিনী প্রতিনিয়ত কৌশল বদলে হামলা চালাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় এগিয়ে আসছে তারা। তারপরও ফ্রন্টলাইনে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা।
ইউক্রেনের হারানো এক হাজার শহর এবং গ্রাম পুনরুদ্ধার সম্ভব পশ্চিমাদের অস্ত্র সহাতার মাধ্যমে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সামরিক সহায়তার বিলম্বের পরিণতি হতে পারে মলদোভায় রাশিয়ার আক্রমণ বা তাদের মিত্র ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরোনিয়াম নিতে পারে মস্কো।’
এনএইচ





