কয়েক দশকের ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চীনকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত করলেও এখনো দেশটির ৮ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ দৈনিক এক ডলারেরও কম আয়ের ওপর জীবনযাপন করে থাকে। তবে, চীন এখন দ্বিতীয় নয়, বরং কিছুদিন আগের এক রিপোর্টে জানা গেছে দেশটি এখন আমেরিকাকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে।
চীনে সরকারি হিসেবে দারিদ্র্যের মানদ- হচ্ছে বছরে ন্যূনতম আয় ২৩০০ ইউয়ান অর্থ্যাৎ ৩৭৫ ডলার, যা দৈনিক ১ ডলার আয়ের কাছাকাছি।
ঊর্ধ্বতন সরকারি উন্নয়ন কর্মকর্তা ঝেং ওয়েনকাই সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ৮ কোটি ২০ লাখ মানুষের দৈনিক আয় ১ ডলারেরও কম ছিলো।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্যসীমার মান হচ্ছে দৈনিক ন্যূনতম আয় সর্বনিম্ন ১ দশমিক ২৫ ডলার। আন্তর্জাতিক এ মাপকাঠি অনুযায়ী হিসেব করলে চীনের দরিদ্রের সংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
দারিদ্র্য পীড়িত এই মানুষগুলোর কেবল কম উপার্জনই নয় একইসঙ্গে তারা সুপেয় পানি, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঋণ প্রাপ্তির সুবিধাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে বলে ঝেং ওয়েনকাই সাংবাদিকদের বলেন।
তিনি বলেন, তাদের অনেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করে। সেই সঙ্গে তাদের নিরাপদ ঘরবাড়িও নেই।
অর্থনৈতিক সংস্কারের ৩০ বছরের মধ্যে চীন প্রথমবারের মতো ২০১০ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় স্থান দখল করে নেয়।
এদিকে এটি আরো উদ্বেগজনক যে, চীনে আয় বৈষম্য ব্যাপক বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম দিকে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রিপোর্টে বলা হয়, কম্যুনিস্ট শাসিত এ দেশের ১ শতাংশ মানুষ দেশটির ৩০ শতাংশেরও বেশি সম্পদের মালিক। অথচ চীনের নিম্নবিত্তের ২৫ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে মোট সম্পদের মাত্র ১ শতাংশ।
এসএমএ





