ভারতে নয় পর্বের চলমান লোকসভা নির্বাচনে এ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলকারী তিন হাজার তিন শ’ পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে তিন শ’ ২৮ জন বা প্রায় ১০ শতাংশেরই গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এটি ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চেয়ে দুই শতাংশ বেশি। এতে প্রমাণ হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এছাড়া এবারের প্রার্থীরা গত পাঁচ বছর আগের প্রার্থীদের তুলনায় অধিক ধনী এবং এবার কোটিপতির সংখ্যাও আগের তুলনায় বেশি।
নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় নিয়োজিত একটি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রাইটস (এডিআর) লোকসভা নির্বাচনের প্রথম পাঁচ পর্যায়ের প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য হারিয়েছে।
প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে যেসব অপরাধের বিবেচনায় নেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ এবং যেসব অপরাধের শাস্তি ন্যূনতম পাঁচ বছর কারাদণ্ড। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে আজ একথা বলা হয়।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র প্রার্থীদের ১৮ শতাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে এটি ছিল ১১ শতাংশ। অথচ এই দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অভিযুক্ত এমপিদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত।
কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী পরিচ্ছন্ন প্রার্থী মনোনয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তার এ অবস্থান প্রার্থী মনোনয়নে সামান্য প্রভাব পড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এবার তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের রেকর্ড আছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২০০৯ সালের ১২ শতাংশ থেকে কমে ১১ শতাংশে নেমে এসেছে।
বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)’র প্রার্থীদের ১১ শতাংশের অপরাধের রেকর্ড আছে। এর পরে রয়েছে এসপি (১০ শতাংশ)। বিহার ও উত্তর প্রদেশে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর এই হার বাড়তে পারে।
এডিআর সহ প্রতিষ্ঠাতা জগদীপ হোকার বলেন, ‘জনগণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড আছে এমন প্রার্থীকে ভোট দেয়া বন্ধ না করলে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মনোনয়ন দেয়া অব্যাহত রাখবে। কেননা দলগুলো মনে করে যে তারা ওইসব প্রার্থীর অর্থ ও পেসীশক্তি ব্যবহার করে ভোট টানতে পারবে।’
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অপরাধী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় দলগুলোর চেয়ে আঞ্চলিক দলগুলো এগিয়ে রয়েছে।
রাজ থ্যাকারের এমএনএস’র ৬০ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। শারদ পাওয়ারের এনসিপি’র প্রার্থীদের ৪০ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আর ডিএমকে এআইএডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস জনতা দল (ইউনাইটেড) ও আম আদমি পার্টি (এএপি)’র প্রার্থীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের রেকর্ড রয়েছে এমন প্রার্থী ১০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কোরাইশি প্রার্থীদের এই অবস্থায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
এডিআরের তথ্য উপাত্তে দেখা যাচ্ছে যে, প্রার্থীদের গড় সম্পদের পরিমাণ ২০০৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসপি ও বিএসপি দলের প্রার্থীদের সম্পদ বেড়েছে গড়ে তিনগুণ।
[b]ঢাকা, ২০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই[/b]
আন্তর্জাতিক
এবার লোকসভা নির্বাচনে অপরাধী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে
ভারতে নয় পর্বের চলমান লোকসভা নির্বাচনে এ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলকারী তিন হাজার তিন শ’ পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে তিন শ’ ২৮ জন বা প্রায় ১০ শতাংশেরই গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে





