কাঠমান্ডু থেকে ইয়েতি এয়ারলাইনসের বিমানটি পোখারায় যাওয়ার পর অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। সেই সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।

এটিআর ৭২ মডেলের দুই ইঞ্জিনের বিমানটিতে মোট ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের ১৫ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। বাকি চার জন ছিলেন বিমানটির কর্মী। দুর্ঘটনার জন্য যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করেছে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ইয়েতি এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী বিমান এটিআর-৭২ সেতি গন্ডকি নদীর ধারের জঙ্গলে ভেঙে পড়ে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নেপাল সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, ‘বিমানটি টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।’ যাত্রীদের মধ্যে ৫৩ জন নেপালি ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। বাকিদের মধ্যে পাঁচ জন ভারতীয়, চার জন রাশিয়ান এবং দুই জন কোরিয়ার নাগরিক ছিলেন।

এছাড়া আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের এক জন করে নাগরিক ছিলেন বিমানটিতে। এই ঘটনার পর মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল। দেশের এজেন্সিগুলোকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দেন।

১৯৯২ সালের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পরে নেপালে এটাই সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। অ্যাভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, সেই বছর পাকিস্তানি এয়ারবাস এ৩০০ কাঠমান্ডুতে অবতরণ করতে গিয়ে একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এই বিমানটি ১৫ বছরের পুরোনো ছিল বলে জানা যাচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, দুই ইঞ্জিনের এটিআর ৭২ বিমানগুলো যৌথভাবে তৈরি করে এয়ারবাস এবং ইতালির লিওনার্দো কোম্পানি। ইয়েতি এয়ারলাইনসের এ ধরনের ছয়টি বিমান রয়েছে। নেপালে বিমান দুর্ঘটনা একেবারে বিরল নয়।

বিগত এক যুগে নেপালে অন্তত আটটি বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে। যাতে যাত্রী ও ক্রু মিলে ১৬৬ জন নিহত হয়েছে।

২০১৮ সালের ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশের ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান। সেই দুর্ঘটনায় বিমানের মোট ৫১ জন যাত্রী এবং ক্রু নিহত হন। ২০ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকের আঘাত ছিল গুরুতর।

গত বছরের ২৯ মে পোখারা থেকে পশ্চিমের শহর জমসমে যাওয়ার পথে ২২ জন যাত্রী নিয়ে তারা এয়ারের একটি বিমান নিখোঁজ হয়। পরে পাহাড়ের একটি খাঁজে ভেঙে পড়া বিমানটির সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে যাত্রীদের সবাই নিহত হয়েছিল।

বিশ্বের সর্বোচ্চ ১৪টি পর্বত শৃঙ্গের আটটি নেপালে রয়েছে, যার মধ্যে হিমালয়ও অন্যতম। নেপালে যে কোনো সময় পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং পাহাড়ের মধ্যে কঠিন এয়ারস্ট্রিপ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে নয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে। এমনই দাবি করল নেপালের বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল খারাপ আবহাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনা। কিন্তু তদন্তে নামতেই জানা গেছে, বিমানটি রানওয়ে ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। ফলে এ ক্ষেত্রে খারাপ আবহাওয়া দায়ী নয় বলেই দাবি মন্ত্রণালয়ের।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, আবহাওয়া ঝকঝকে ছিল। পোখারা উপত্যকায় আকাশও পরিষ্কার ছিল। তবে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

যাত্রীবাহী বিমানটি বিমানবন্দর ছোঁয়ার ১০ সেকেন্ড আগে ভেঙে পড়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) জানিয়েছে, পোখারা বিমানবন্দরের রানওয়ে পূর্ব-পশ্চিম দিক বরাবর।

এটিসির দাবি, প্রাথমিকভাবে পাইলটকে পূর্ব দিকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে যদিও পাইলট পশ্চিম দিকে নামার জন্য এটিসির কাছে অনুমতি চান। তাকে নামার জন্য অনুমতিও দেওয়া হয়। কিন্তু রানওয়ে ছোঁয়ার ১০ সেকেন্ড আগেই সেটি ভেঙে পড়ে।

এন