ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে তিনটিতেই জয় পেয়েছে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যে উপনির্বাচনের ফলাফলে সবচেয়ে বড় চমক ছিল কালিয়াগঞ্জ আসনটি। যেটি বিজেপির ঘাঁটি হিসেবেই অনেকটা পরিচিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০৪ ভোটে জয়ী হলেন তৃণমূল প্রার্থী তপন দেব সিংহ।
গত জাতীয় নির্বাচনেও এই অঞ্চলে ৫৬ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে চিত্রটা পাল্টে গেল। এই প্রথম কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় এবারই প্রথম জিতল মমতার দল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে এনআরসি, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার, বাবরি মসজিদ মামলার রায় বিদ্বেষসহ বিভিন্ন কারণে এই এলাকার মানুষ বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাত্র ছ’মাস আগে লোকসভা লোকসভা ভোটে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন ৫৬ হাজার ৭৬২ ভোটে। সেখান থেকে এই ব্যবধান কমিয়ে ফের তৃণমূল প্রার্থীর জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্য দিকে খড়গপুর সদর কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও ছ’মাসের মধ্যেই পাল্টে গেল চিত্র। এই আসনেও গত লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৪৬ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিল বিজেপি। ২০১৪ বিধানসভা নির্বাচনেও জিতেছিল তারা।
করিমপুর আসনটি তৃণমূলের আসন হিসেবেই বিবেচিত। প্রত্যাশামতোই সেখানে জয়ে পেয়েছে মমতার দল।
‘এনআরসি’র জন্যই হেরে গেলাম’
বিজেপি সরকারের এনআরসি’ই উপনির্বাচনে হারার কারণ বলে মনে করছেন কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কমল চন্দ্র সরকার। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনের ফলে এই বিধানসভায় ছাপান্ন হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল। অথচ বৃহস্পতিবার উপনির্বাচনের ফলে এখানে তৃণমূল প্রার্থী তপনদেব সিং-এর কাছে ২৩০৪ ভোটে পরাজিত হতে হল বিজেপি প্রার্থী কমল চন্দ্র সরকারকে।
ফলাফল প্রকাশের পর কমল চন্দ্র সরকার সংবাদমাধ্যমে বললেন, ‘এনআরসি-র জন্যই হেরে গেলাম’। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী মনে করেন এই জয়ের পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রাজনীতি এবং এনআরসি, দু’টিই কাজ করেছে।
এএইচ





