চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫০জন নিহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাঁচ'শরও বেশি লোক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

চীনের নেতারা বলেছেন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা করার জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তিয়ানজিনে রাসায়নিক এবং দাহ্য দ্রব্যের একটি গুদামে বুধবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণে আসে-পাশের অনেক এ্যাপার্টমেন্ট ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে, হাজার হাজার গাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে। হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সরা আহতদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। দমকল বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চীনের কর্মকর্তারা বলছেন সেখানকার সময় রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পর পর দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার শকওয়েভ বা ধাক্কা পৌঁছে গিয়েছিল কয়েক কিলোমিটার দুর পর্যন্ত।

প্রথম বিস্ফোরণটির শক্তি ছিল তিন টন টিএনটির সমপরিমাণ। কিন্তু তার পরেরটির শক্তি ছিল ২১ টন টিএনটির মতো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন বিস্ফোরণের পর আগুনের কুণ্ডলী রাতের আকাশকে একেবারে আলোকিত করে তোলে। বহু দুর থেকে যা দেখা গেছে। অনেকে ভেবেছেন ভূমিকম্প হচ্ছে। বহু মানুষজন আতংকে বাইরে ছুটছিলেন।

ওদিকে দিনের আলো ফোটার পর বোঝা যাচ্ছে চারপাশে বেশ কিছু ভবন গুড়িয়ে গেছে। দুমড়ে মুচড়ে পড়ে রয়েছে বহু কন্টেইনার। সকালেও আগুন জলতে দেখা গেছে।

আশপাশে বিশাল এলাকা জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে তল্লাসি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহরের হাসপাতালগুলো আহতদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানাচ্ছে বিবিসির সংবাদদাতা। এই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

এআর