টানা তৃতীয় বারের মত বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী নেতা ইভো মোরালেস। তিনি ৬১ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধনী সিমেন্ট ব্যবসায়ী স্যামুয়েল দোরিয়া মেদিনাকে পরাজিত করেছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তারা শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ইভো মোরালেস হলেন দেশটির প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট। তিনি শূন্য থেকে নিজ গুণে শীর্ষে পৌঁছানোর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি দেশে ‘এল ইভো’নামে পরিচিত।

কিউবা, ভেনিজুয়েলা ও ইরানের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিক্ততার সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি তার বিজয়কে লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবার বামপন্থী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো, ভেনিজুয়েলার নেতা হুগো শ্যাভেজ এবং বিশ্বের সব সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ও পুঁজিবাদবিরোধীনেতাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন।

মাদকের দোহাই দিয়ে কোকো চাষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ ছিল ইভো মোরালেসের। তখনই ইউনিয়ন নেতা হিসেবে তার উত্থান। তার নেতৃত্বে কোকো চাষিরা আন্দোলন গড়ে তোলেন। বলিভিয়ার অনেকে কোকো পাতা পানের মতো চিবিয়ে খান, আবার অনেকে এটি চা-পাতার মতো ব্যবহার করে পান করেন। তখন তিনি যুক্তি দেন, এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জন্ম নেয়া ইভো মোরালেস ছিলেন লামা নামের দক্ষিণ আমেরিকার এক ধরনের প্রাণীর রাখাল। তিনি গান গাইতেন, ফুটবল খেলতেন আর ছিলেন কোকো চাষি।

ইভো মোরালেসের বিগত শাসনামলে উন্নয়নমুখী অনেক নীতি গ্রহণ করার কারণে দেশটিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এসেছে। ৬৫ শতাংশ আদিবাসীর দেশ বলিভিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কেব্ল কার চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে ইভো মোরালেসের শাসনামলে। দেশের প্রথম স্যাটেলাইটও উৎপেক্ষণ হয়েছে তার আমলেই। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে অগ্রগতিও হয়েছে অনেকটা। এর ওপর ভর করেই ৫৪ বছর বয়সী ইভো মোরালেস গত ১২ অক্টোবর রোববারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০০২ সালে ইভো মোরালেস প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। তবে সেবার হেরে যান তিনি। ২০০৬ সালের নির্বাচনে তিনি ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন।

এসএমএ