ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের সন্ধান রাতের অন্ধকার ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থগিত করার এই ঘোষণা দেয়া হয়। আগামীকাল সোমবার সকাল ৭টা অথবা আবহাওয়া ভালো হওয়া সাপেক্ষে আরো আগে আবার অনুসন্ধান শুরু করা হবে। খবর আল জাজিরার।

এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার একটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বিমানের ধ্বংসাবশেষের খোঁজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে। তবে, এর সত্যতার কোন ভিত্তি নেই। এই ধ্বংসাবশেষ অন্য কোন বিমানের কি না তাও জানা যায়নি।

ইন্দোনেশিয়ার বিমান সংস্থা 'এয়ার এশিয়া'র একটি বিমান ১৬২ জন যাত্রী, ক্রু ও পাইলট নিয়ে রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে রাডার থেকে হারিয়ে যায়। যাত্রীদের মধ্যে ১৫৫ জনই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ জন এবং সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের একজন করে নাগরিক ছিলেন বিমানটিতে। যাত্রীদের মধ্যে ১৬টি শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

'কিউজেড৮৫০১' নামের এয়ার এশিয়ার 'এয়ারবাস এ৩২০-২০০' ক্যাটাগরির বিমানটি ছিল দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট। এটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সুরাবায়া শহরের জুয়ান্ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছিল।

বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগ মুহূর্তে বিপদ সংকেত পাঠিয়েছিলেন পাইলট। পাইলটেরা জাকার্তার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের কাছে বিমানের যাত্রাপথ পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছিলেন এবং ঝড় ও খারাপ আবহাওয়ার সীমা থেকে ঊর্ধ্বে উঠার অনুমতি চেয়েছিল।

বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর দুটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার বাংকা ও বেলিটুং দ্বীপের আশপাশে জাভা সাগরে অনুসন্ধান চালায়। স্থানটি বোর্নিও দ্বীপের কালিমান্তানের কাছে। তবে, সারাদিন অনুসন্ধান চালিয়েও বিমানের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান সোয়েলিসতিও জানিয়েছেন, বিমানটি উদ্ধারে তারা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। বিমানটির সন্ধানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় জনগণ এবং জেলেদেরও সহায়তা নেয়া হবে। এদিকে মালয়েশিয়ার তিনটি করে জাহাজ ও বিমান সোমবার অনুসন্ধান কাজে যোগ দিবে বলে জানা গেছে। সিঙ্গাপুরও একটি 'সি১৩০' বিমান দিয়ে অনুসন্ধান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও সহায়তা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের চাংগি বিমানবন্দরে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন বিমানটির যাত্রীদের স্বজনেরা। উল্লেখ্য, বিমানটি এই চাংগি বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিল। অন্যদিকে, সুরাবায়ার বিমানবন্দরেও শত শত মানুষ সর্বশেষ খবর জানতে টার্মিনালে ভিড় জমিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদুদু ক্রু-পাইলটসহ যাত্রীদের 'নিরাপদে থাকার আশায়' প্রার্থনা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘন মেঘ এড়াতে বিমানটির পাইলটকে ৩৮ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বিমানটি তখন ৬ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে চলছিল।

এর আগে চলতি বছরই আরো বড় ধরনের দুটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। দুটি বিমানই ছিল ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের। এর মধ্যে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০ নামের ফ্লাইটটি গত মার্চে ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। আজ পর্যন্ত এর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সেরই আরেকটি বিমান ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ভূমি থেকে নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানটিতে থাকা ২৯৮ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন।

এমএ