গতকাল শনিবার রাতে লন্ডন ব্রীজ ও বোরাফ মার্কেট এলাকায় হামলায় এই পর্যন্ত প্রায় ৬ নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জনের মতো।
শহরের দুটি পৃথক স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনই হামলাকারী বলে পুলিশের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
রাতটি ছিল লন্ডনে সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন। তাই লোকজনের সমাগম ছিল প্রচুর। পাশাপাশি দুইটি জায়গায় হামলার ঘটনায় অনেক প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল যাদের বর্ণনায় বেরিয়ে আসে ভয়াবহ এই হামলার আসল রুপ।
জিরার্ড বওল(৪৭) বলেন, কিছু লোক হঠাৎ করে জঙ্গি জঙ্গি বলে চিৎকার করে উঠে। আমি মনে করেছিলাম তারা মনে হয় মজা করছিল একে অন্যের সাথে। কিন্তু হঠাৎ করে চিৎকারের পরিমাণটা বেড়ে যাওয়ায় আমি পেছনে ফিরে তাকালাম। দেখলাম কিছু লোক ছুরিকাঘাতে জর্জরিত , পাশাপাশি তাদের শরীরে রক্ত দেখে আমার বিশ্বাস হলো। এটা মজা না এটা সত্যিই ঘটে চলেছে।
লন্ডনের এই হামলা মাত্র দুই মাসের মাথায় ঘটে। যেখানে দুই মাস আগে ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রীজে ঠিক একই রকম গাড়ী নিয়ে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আরিয়ানা গ্রান্ডে একটি জঙ্গি হামলা চালানো হয়। যেটা লন্ডনের জন্য বহুরুপী সতর্ক সংকেত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেবিও লামাস বোরাফ মার্কেটে একটি দোকানে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমি হঠাৎ করে শুনি সবাই ছুরি, ছুরি বলে চিৎকার করছে। তাকিয়ে দেখি তিনটি লোক হাতে ছুরি নিয়ে সাধারণের ওপর হামলা করছে। আর একজন মার্কেটের দরজাটা বন্ধ করে দিলো। আমরা মার্কেটের ভিতর থেকে মার্কেটের বাহিরে গোলগুলির আওয়াজ শুনতেছিলাম।
বোরোফ মার্কেটের আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায় সে দেখে আচমকা একটি লোক মার্কেটের ভিতরে ঢুকে কোন কথা ছাড়াই একটা মহিলাকে ছুরিকাঘাত করা শুরু করে। তখন দোকানের ম্যনেজার এবং অন্যান্য লোকেরা আক্রমণকারী লোকটিকে বোতল ছুড়ে মারে এবং বারের টিবিল দিয়ে তাকে ধাক্কা মেরে বাহিরে ফেলে দেয়।
জো ডিলন নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমি হঠাৎ লোকজনের ছোটাছুটি দেখতে পাই এবং প্রায় ৮-৯টি গুলির আওয়াজ শুনতে পাই। আমি খুব জোরে দোড়াতে না পারলেও সর্বোচ্চ দোড়ানোর চেষ্টা করেছি।
রেলওয়ে কর্মকর্তা মেট কপার বোরাফ মার্কেটে কফি আনতে গিয়েছিল। হঠাৎ করে দেখে সবাই তার দিকে ছুটছে এবং সাথে সাথে সে পরপর ১২টি গুলির শব্দ শুনতে পায়। সে সময় পুলিশ সবাইকে দৌড়াতে বলছে।
উল্লেখ্য যে বোরাফ মার্কেটের পাশে দুইটি হাসপাতাল ছিল। যেগুলো ঘটনার সাথে সাথে নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হলো।
এদিকে লন্ডনে পৃথক এই দুটি হামলায় গভীর নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি বর্বর এই হামলাগুলোর মোকাবিলায় ব্রিটেনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জেড





