ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে পুলিশ বাহিনীর গুলিতে নিহত ছেলের লাশে ‘গান স্যালুট’ দিয়েছেন কাশ্মিরে হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার সাদ্দার পাদ্দারের মা। সোমবারের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।
পাদ্দার ২০১৪ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠীটিতে যোগ দেন। রবিবার কাশ্মিরের সোপিয়ানে এক বন্দুকযুদ্ধে অন্য চার জঙ্গির সঙ্গে তিনিও নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রাফি ভাটও ছিলেন। সাদ্দার হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোপিয়ানের হেফ গ্রামে পুলিশ বাহিনী থেকে পালিয়ে গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়া মোহাম্মদ নাভিদের ধরে রাখা একটি বন্দুকের ট্রিগার চেপে গুলি ছোড়েন পাদ্দারের মা। ওই রাতে সেখানেই পাদ্দারের লাশ রাখা হয়েছিল। পাদ্দারের মা আকাশে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই রক্তক্ষয় বন্ধ করতে মধ্যপন্থী উপায় খুঁজে বের করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর পর এই গান স্যালুটের ঘটনা ঘটলো। মেহবুবা মুফতি বলেছেন, ‘কাশ্মিরে রক্তক্ষয় বন্ধ করতে আমি জনগণ ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মধ্যবর্তী কোনও উপায় খুঁজে বের করার অনুরোধ করছি’। জঙ্গিবাদে যোগ দিয়ে শিশুরা যাতে মৃত্যুর দিকে না যায় তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে তিনি বলেন, ১৮ ও ২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করার জন্য আল্লাহ আমাদের এই দুনিয়ায় একটি সুন্দর জীবন দেননি।’ তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের তরুণদের হাতে পাথর ও বন্দুক দেখা যাচ্ছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো সহিংসতার ভুক্তভোগীরা সমাজের সবচেয়ে নিচু স্তরের। তাদের জন্য প্রতিদিনের জীবিকা উপার্জনই জীবন-মরণের ব্যাপার।
এদিকে সোপিয়ানে অভিযানে ৫জন বেসামরিক লোককেও হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের ডাকা ‘মন্ত্রণালয় ঘেরাও’ কর্মসূচি প্রতিহত করেছে কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে পুলিশ ও সিআপিএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে যাতে মিছিল নিয়ে কেউ সেখানে যেতে না পারে।
কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী উদারপন্থী নেতা মিরওয়াইজ উমার ফারুক তার গৃহবন্দিত্ব ভেঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে আটক করা হয়। এছাড়া আরেক নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। ইয়াসিন মালিককেও শ্রীনগর কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। স্বাধীনতাকামী নেতারা সোপিয়ান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার পর্যন্ত হরতার ডেকেছেন।
এস আলম





