গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বর্বর ইসরাইলের হামলায় নিহত শিশুদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ক্রিস গানেস।

বুধবার ওই হামলার পর একটি টেলিভশন চ্যালেনকে দেয়া সাক্ষাৎকারের সময় গানেস কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জাতিসংঘের আশ্রয় শিবির হিসেবে ব্যবহৃত ওই বিদ্যালয়টির ফ্লোরে শিশুরা যখন তাদের বাবা-মার সাথে ঘুমাচ্ছিল তখন ইসরাইলি জঙ্গি বিমান আঘাত হানে। এতে অন্তত ২০ জন মারা যায়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়েই অঝোরে কেঁদে ফেলেন গানেস। তবে তার কান্না বর্বর ইসরাইলিদের হৃদয়ে এতটুকু নাড়া দেয়নি। এখন জাতিসংঘ থেকে তার বহিষ্কার চাইছে ইসরাইল। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রন প্রসর বলেন, গানেসকে অবশ্যই বরখাস্ত করতে হবে। এক চিঠিতে তিনি গানেসকে হামাস সমর্থক এবং ইসরাইল বিরোধী বলে মন্তব্য করেন।

গাজার জাবালিয়া উদ্বাস্তু শিবিরে অবস্থিত আবু হোসেন নামের ওই বালিকা বিদ্যালয়ের ৩,৩০০ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে।

বুধবার ইসরাইলি হামলার পর জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা আনরোর মুখপাত্র ক্রিস গানেস বলেছেন, শিশুদেরকে ঘুমের মাঝে হত্যা করা হয়েছে।

‘বাচ্চারা তাদের মা-বাবার সাথে জাতিসংঘ-নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের ক্লাসরুমের মেঝেতে ঘুমচ্ছিল। বাচ্চারা ঘুমের মধ্যে নিহত হয়েছে’, বলেন গানেস।

‘এটা নিশ্চয়ই আমাদের সবার জন্য অপমানজনক, সার্বজনীন লজ্জার বিষয়, আজ গোটা বিশ্ব ধিক্কারের মুখে’, যোগ করেন তিনি।

গাজায় জাতিসংঘের কার্যক্রমের পরিচালক বব টার্নার বলেছেন, এই স্কুল যে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা ইসরাইলিদের ১৭ বার জানিয়ে দেবার পরও কয়েকবার সেখানে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

টার্নার বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা অফিসাররা স্কুলে যেসব গোলা আঘাত হেনেছে, সেগুলোর অবশিষ্ট টুকরোগুলো বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে ইসরাইলিরাই হামলা চালিয়েছে। সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

ঢাকা, ৩১ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ