যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ তাদের দাবি, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের নামে এফবিআই অনেক সময় নিরীহ মানুষদের হয়রানি করে৷

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের কিছু তথ্য তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর মুখপাত্র আন্দ্রেয়া প্রাসো বলেন, ‘‘এফবিআই প্রায়ই এমন লোকদের ‘শিকার' বানায় তদন্ত শুরুর আগে যাদের সন্ত্রাসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না৷ তারা প্রায়ই ধর্মীয় বা জাতীয় পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে মানুষগুলোকে ধরে৷ এটা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন৷''

এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় নিকিওয়ে মাসাঙ্গোর৷ চোখ খুলে দেখেন এক লোক তাঁর ওপরে৷ লোকটি বলল, চোখ ঢেকে রাখতে যাতে তাকে চেনা না যায়৷ তারপর সারা রাত ধরে চলল ধর্ষণ৷ দক্ষিণ আফ্রিকার এই নারীর বয়স এখন ৮৭ হয়ে গেলেও সেই রাতের কথা ভোলেননি মাসাঙ্গোর৷ তাঁর এ ছবি তুলেছেন জার্মান ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসের ‘আফ্রিকায় মানবাধিকারের ছবি’ ক্যাটাগরির ফাইনালিস্ট লুঙ্গি মবুলওয়ানা৷

এইচআরডাব্লিউ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘নাইন ইলেভেন'-এর পর থেকে গত ১৩ বছরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৫০০ লোককে বিচারের মুখোমুখি করেছে এফবিআই৷ তাঁদের মধ্যে অনেকেই মুসলমান৷ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ২৭টি মামলার বর্ণনা দিয়ে আন্দ্রেয়া প্রাসো জানান, এফবিআই-এর এমন তৎপরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মুসলমানই এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন৷ সরকারের প্রতি ভীতি নিয়ে বসবাস করছেন তাঁরা৷''

প্রতিবেদনে এফবিআই-এর বিরুদ্ধে ঘুস দিয়ে দরিদ্র মানুষকে সন্ত্রাস নির্মূল মামলায় জড়ানোর অভিযোগও তুলেছে এইচআরডাব্লিউ৷ মানসিকভাবে সুস্থ নন এমন লোকদের মামলায় জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে এফবিআই-এর বিরুদ্ধে৷ কখনো কখনো এফবিআই-এর গোপন তথ্য সরবরাহকারীরা ঢুকে পড়েন মসজিদে৷ সেখানে দরিদ্র কোনো মানুষকে ধরে তাঁর কাছ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল কার্যক্রমে সহায়তা চান৷ মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কেউ এফবিআই-এর ছক অনুযায়ী কাজ করতে রাজি হলে মামলা সাজাতে আর কোনো সমস্যা থাকে না৷ আন্দ্রেয়াস প্রাসো জানান, এমন পরিস্থিতিতে খুব আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানরা৷

ঢাকা, ২৩ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এনএস