সন্ত্রাসের সঙ্গে আজও সহবাস করে ভালোবাসা, মানবিকতা। আজও সাম্প্রদায়িকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিতে যায় মনুষ্যত্ব। এখনো এমন মানুষ বাস করেন যাদের কাছে ধর্মের থেকে বড় মানুষের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য।
আর তাই তো মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি ছোট্ট শহর মুমব্রার আলমাস কলোনির এক দল মুসলিম যুবক নিজেদের কাঁধে তুলে নেন এক হিন্দু বৃদ্ধের সৎকাররের দায়িত্ব।
রোববার রাতে নিজের বাড়িতেই মারা যান একটি ফ্ল্যাটের ওয়াচম্যান ৬৫ বছরের ওয়ামান কাদম। তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিল তার স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর খবর দুই সন্তান এবং অন্যান্য আত্মীয়দের জানালেও তারা স্পষ্ট বলে দেন, রাতে তাদের পক্ষে আসা সম্ভভ নয়।
তখনই ওয়ামানের স্ত্রী ভিতাভা পাড়ার যুবকদের অনুরোধ করে তার স্বামীর অন্ত্যেষ্টিতে সাহায্য করার জন্যে। এক কথায় এগিয়ে আসেন আট যুবক, খালিল পাওনে, ফাহাদ দাবির, নাওয়াজ দাবির, রাহিল দাবির, শাবান খান, মাসুক খান, ফারুক খান ও মহম্মদ কাসম শেখ।
তারাই যোগাযোগ করে পুরোহিতের সঙ্গে এবং ডাক্তারের থেকে ডেখ সার্টিফিকেটও যোগাড় করে।
এর আগে ওই দিনই এই আট যুবকই তাদের কাদম 'আঙ্কেল'কে সকালে চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে নিয়ে গেয়েছিল। সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। পরে রাতে অবস্থার অবনতী হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান ওই পৌঢ়।
তার স্ত্রী জানান, ‘আমার স্বামী কোনোদিন ভাবতেও পারেননি তার মৃত্যুর পরে এত ভালোবাসা ও সম্মান পাবেন। ওর শেষযাত্রায় সঙ্গী হয়েছিল ৪০ জন মুসলিম যুবক। ওরাই দায়িত্ব নিয়ে সব কাজ করেছে। ওরা যখন খুব ছোট ছিল, তখন থেকে চিনি। এখন বড় হয়ে ওরা মানবিক এবং স্পর্ষকাতর হয়েছে’।
রাত তিনটার সময় কাছের একটি শ্মশানে দেহ নিয়ে যায় তারা। মুখাগ্নি করতে যাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত হন কাদমের এক ছেলে। শুধুমাত্র বাবার মুখাগ্নি করে সেখান থেকে সে চলে যায়।
পরের দিন সকালে শ্মশান গিয়ে অস্থি নিয়ে আসে ওই আট যুবকই। হিন্দু রীতি মেনে সেই অস্থি তারা ভাসিয়ে দেয় নদীতে। কাদমের স্ত্রীর দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে প্রতিবেশীরা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এফএফ





