ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেছেন, ‘ভারতে মুসলিম ও দলিতদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে যারাই সোচ্চার হচ্ছে তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আমরা সবাই একজোট হয়ে বিজেপিকে বের করে দেবো’  

তিনি আজ রোববার বিহারের রাজধানী পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে বিজেপি বিরোধী এক বিশাল জনসমাবেশে ওই মন্তব্য করেন।   

মমতা বলেন, ‘আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত কিন্তু ভারতকে টুকরো হতে দেবো না। দেশে ‘সুপার জরুরি অবস্থা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অপশাসনের প্রতিবাদে বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবের আহ্বানে আজ ‘বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও’ নামক মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়।  

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সমাবেশে ভাষণ দিয়ে বর্তমান অরাজকতা থেকে দেশকে বাঁচানোর আহ্বান জানান। 

মমতা বলেন, ‘বন্যায় পীড়িত বিহারবাসীদের আমার সমবেদনা জানাই। বাংলাতেও বন্যা হয়েছে, আমরাও ভুক্তভোগী। আগেও আমি বিহারে এসেছি মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। কিন্তু আমি নীতিশ কুমারের জন্য নয়, বিহারবাসীদের টানে এসেছিলাম।’ 

মমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘আমরা ভয় পাই না। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। পারলে আমাদের সঙ্গে লড়াই করুন। আমরা জীবন দিয়ে লড়ব কিন্তু নীতির সঙ্গে আপোশ করব না। নোট বাতিলের জন্য এই সরকারকে মানুষ বিদায় করে দেবে।’

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে সরকারকে ‘অব দ্য এজেন্সি, ফর দ্য এজেন্সি এবং বাই দ্য এজেন্সি’ বলে মন্তব্য করেন।

মমতা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনারা পারলে আমাদের কারাগারে পাঠান। দেখি আপনারা কতজন নেতাকে জেলে পাঠাতে পারেন।’

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে মমতা বলেন, ‘তিন বছর পার হয়ে গেছে। ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন) কোথায়? যুবকরা বেকার, মহিলারা সুরক্ষিত নয়, কৃষকরা মারা যাচ্ছে। আজ দেশের দলিতরা আক্রান্ত, সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত, পিছিয়ে পড়া মানুষরা আক্রান্ত।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন্ন নির্বাচনে বিহারের মানুষ নীতিশকুমার (বিহারে বিজেপি সমর্থিত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী) ও বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে বলেন, ‘আজ বিহারকে ভয় দেখানো হচ্ছে, তামিলনাড়ুকে ভয় দেখানো হচ্ছে, বাংলাকে ভয় দেখানো হচ্ছে, সারা দেশ সন্ত্রস্ত।’

মমতা বলেন, ‘আরএসএস এবং বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে দাঙ্গা করতে চায়। ওরা পঞ্চকুলার পরিস্থিতি (গুরমিত রাম রহিম সিং জনিত) নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। বিজেপিশাসিত রাজ্যে তাড়াতাড়ি সেনাবাহিনী নামানো হয়। কিন্তু অবিজেপি রাজ্য কোনো সাহায্য পায় না।’ 

তিনি বলেন, ‘ত্যাগ কা নাম হ্যায় হিন্দু, ঈমান কা নাম হ্যায় মুসলমান, শিখ কা নাম হ্যায় বলিদান, ইয়ে হ্যায় হামারা হিন্দুস্তান’ (ত্যাগের নাম হিন্দু, ঈমানের নাম মুসলিম, শিখের নাম আত্মত্যাগ-এটাই আমাদের ভারত)। 

জেডিইউ প্রধান ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে টার্গেট করে মমতা বলেন, ‘লালুপ্রসাদের নামে ভোট পেলেও তাকে প্রতারণা করে নীতিশ কুমার বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করেছে। আগামী দিনে বিহারবাসী নীতিশ কুমারকে প্রত্যাখ্যান করবে।’

বিহারে বিজেপি বিরোধী ওই মহাসমাবেশে আরজেডি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি, ঝাড়খণ্ড মুক্তির মোর্চা, ঝাড়খণ্ড উন্নয়ন মোর্চা, রাষ্ট্রীয় লোক দল, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এমবি