এটা যেন শাহরুখ খান-প্রীতি জিনতা অভিনীত ‘বীরজারা’ সিনেমার খানিকটা বাস্তব অভিনয়! পাকিস্তান ভারতের জটিল সীমানা রেখা পেরিয়ে ভারতে প্রেমিকের বাড়িতে চলে এসেছে পাকিস্তানি কনে প্রিয়া বাচ্চানী। যোধপুরের ছেলে নরেশ তিওয়ানি বিয়ে করতে যাচ্ছেন তার পাকিস্তানি প্রেমিকা প্রিয়াকে।

তাদের এ বিয়েতে সরাসরি সহায়তা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নিজে। পাকিস্তানে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনকে এই নির্দেশনা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন কনে ও কনের পরিবারকে ভারতে এসে বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ভিসা দেওয়া হয়।

যোধপুরের ছেলে নরেশ করাচির প্রিয়ার সাথে প্রেম করে আসছিলো গত তিন বছর ধরে। তাদের বিয়ে ঠিক ধার্য করা হয়েছিল ৭ নভেম্বর।

কিন্তু বিয়ের দিন যত এগিয়ে আসছিল বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে তত মেঘের ঘনঘটা হচ্ছিল। পাকিস্তানে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন কোনো ভিসা দিচ্ছিল না। এদিকে প্রিয়তমাকে পাবার আকাঙ্খায় বর সব ধরণের চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছিল। তার মধ্যে একটি হচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে টুইটারে সরাসরি অনুরোধ করা। সেখানে সুষমা স্বরাজের কাছে অনুরোধ করা হয় তিনি যেন কনে ও কনেপক্ষের পরিবারের ৩৫ জন সদস্যকে ভারতে আসার ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

অনুরোধ করেও যেন মেঘ কাটছিলনা বরের! কনে ও কনেপক্ষ কি অনুমতি পাবে এই ভয়ে দিন কাটছিল তার। কিন্তু তাকে বিস্ময় উপহার দিয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন সুষমা স্বরাজ। রোববার ভারতে এসে পৌঁছেছেন কনে ও কনেপক্ষ। সোমবার অনুষ্ঠিত বিয়েতে অংশগ্রহণের জন্য একদিন আগেই চলে আসার সুযোগ পান তারা।

এতে ভারতের সবচেয়ে সুখী মানুষের একজন মনে করতেই পারেন নরেশ। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে কনেপক্ষের ৩৫ জনই যোধপুর আসার ভিসা পেয়েছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

এদিকে কনে প্রিয়ারও যেন সুখের সীমানা নেই। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে প্রিয়া যেন একটি সুবাতাস। রাজনীতির মাঠ থেকে শুরু করে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শিল্পীদের মধ্যেও যেখানে রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি হয়েছে সেখানে বাস্তব জীবনের কাহিনী দিয়ে সিনেমার গল্পকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন করাচির মেয়ে প্রিয়া!

অনুভূতি শেয়ার করতে গিয়ে ভাষাহীন কনে প্রিয়া বলেন, ‘আমি খুব আনন্দিত যে সবকিছু পরিকল্পনামত হচ্ছে। বিয়ের অনুষ্ঠান খুব উপভোগ করছি।’

তাদের এ বিয়ের আনন্দ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুদেশের জন্যই মঙ্গল।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

জারিফ