চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, বাংলাদেশের যে কোন জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবে চীন।
রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
গত ৬ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবে এগুতে থাকলে বাংলাদেশ ২০২১ সাল ও ২০৪১ সালের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তাতে পৌঁছাতে পারবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।
চীন ও বাংলাদেশের স্বপ্ন একই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তাদের শক্তি, সার্মথ্য কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশকে চীন অধিক ফলনশীল উন্নত জাতের ধান ও তার প্রযুক্তি দিবে বলে জানান সফররত এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শান্তি শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে আরো অবদান রাখবে আশা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ এক সঙ্গে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশ সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পাট ও পাটজাত পন্য আমদানি করার আশা করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ-চীন সর্ম্পকের ৪০ বছর পূর্তি। জাকজমকপূর্ণভাবে এ উৎসব পালন করবে দুই দেশ। বৈঠকে এ বিষয়েও আলোচনা হয়।
৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা দুই দেশ সফর করবেন। দু দেশের নেতাদের এ ধরনের সফর দুই দেশের সর্ম্পককে আরো গভীর করবে বলে আশা করেন প্রকাশ করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আগামীতে চীনের রাষ্ট্রপতি কর্ণফুলী টানেলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। চায়না ও বাংলাদেশ দু’দেশের দারিদ্র বিমোচনে এক সঙ্গে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ এক সঙ্গে কাজ করলে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে দুই দেশ।
প্রধানমন্ত্রী চীনের উন্নয়নের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চায়নাকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে বাংলাদেশ অনুসরণ করবে। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে আরো সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চায়না, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সর্ম্পক এখন অনেক ভালো। ভবিষ্যতে এ সর্ম্পক উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রদূত।
এমকে





