ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে রেকর্ড পরিমাণ অনুপ্রবেশকারী, এমনটাই জানাল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। খরর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এসডিটিভির।

বিএসএফের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকর হওয়ার পরে ভারতে অবৈধভাবে বসতি গেড়ে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের মনে ভয় ধরে গেছে। ফলে তাঁরা যে কোনওভাবেই হোক বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যদিও এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে এ দেশে বিক্ষোভ-আন্দোলন চলছে। তবে সিএএ ভয় ধরাচ্ছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মনে, এমনটাই মনে করছেন বিএসএফের আধিকারিকরা।

বিএসএফের মহানির্দেশক (দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত) ওয়াই বি খুরানিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “গত এক মাসে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাওয়া অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে… শুধু জানুয়ারিতেই আমরা এখনও পর্যন্ত ২৬৮ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছি, যাদের বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশটিতে গোপনে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল।”

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া শুধুমাত্র অ-মুসলিম শরণার্থীদেরই নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যদিও এই আইনটি পাস হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন অনেকেই। বিরোধীদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী। ভারতের বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রকে এই আইন প্রত্যাহার করার কথাও বলেছে।

যদিও মঙ্গলবারই লখনউয়ের সভামঞ্চ থেকে রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়ে অমিত শাহকে বলতে শোনা যায় যে, যাই-ই হয়ে যাক না কেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন দেশে প্রয়োগ করা হবেই।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই কথা সকলকে জানিয়ে রাখি, এই আইনটি কোনওভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না, যে যতই প্রতিবাদ করুন না কেন... আমরা বিরোধীদের ভয় পাই না, আমরা বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই জন্মগ্রহণ করেছি।”

এমবি