ব্রিটেন থেকে সরাসরি ফ্লাইটের একটি বিশাল চাহিদা রয়েছে সিলেট, ইসলামাবাদ, কলকাতা বা তেহরানের মতো সিটিগুলোতে, এমনকি সৌদী আরব এবং আফ্রিকার অনেক গন্তব্যে। এসব রুটের বিপুল সম্ভাবনাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অত্যাধুনিক ফুল সার্ভিস নেটওয়ার্ক এয়ারলাইন্স, ফিরনাস এয়ারওয়েজ।
২০১৬ সালের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবীর ৮টি ডেস্টিনেশনে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এই নেটওয়ার্ক এয়ারলাইন্স। ব্রিটেনে ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী, নেপালিজ, ইরানী, ওয়েস্ট আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ নতুন এক মাইলফলক বললেন উদ্যোক্তারা।
মঙ্গলবার ইস্ট লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন ফিরনাছ কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফিরনাসের প্রতিষ্ঠাতা এবং চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কাজী শফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এয়ারলাইন্সের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কেভিন জন স্টিল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সিলেট তথা সাউথ এশিয়ার কিছু সিটিতে ইউকে থেকে সরাসরি ফ্লাইটের একটি বিশাল চাহিদা থাকলেও বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো এই মার্কেটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেনা। ফিরনাস এয়ারওয়েজ এসব রুটকে টার্গেট করে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করতে চায়।
কেভিন জন স্টিল সাউথ এশিয়াসহ দুনিয়াজুড়ে তার চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে বলেন, এ কারণেই ফিরনাসের এয়ারওয়েজ সফলতা পাবে।
তিনি আরো বলেন, শুরুতে ২৫০ থেকে ৩০০ সীটের এয়ারক্রাফট নিয়ে যাত্রা শুরু করবে ফিরনাস। পারিবারিক পরিবেশ এবং বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গিকার। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে ভ্রমনকারী যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ন হালাল খাবার ও পরিবেশ এবং ইবাদতের বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। শিশুদের জন্য থাকবে ব্যতিক্রমি ব্যবস্থা।
ফিরনাসের সিইও কাজী শফিকুর রহমান বলেন, কম মূল্যে বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে চায় ফিরনাস এয়ারওয়েজ। প্র্থামিকভাবে বৃটেন থেকে বিশ্বের ৮টি ডেস্টিনেশনে সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে। এর মধ্যে সিলেট, ইস্তাম্বুল, টরেন্টো, ইসলামাবাদ, ঘানা, রিয়াদ ও নয়া দিল্লিকে টার্গেট রুট হিশেবে ধরা হয়েছে। এয়ারলাইন্সখাতে এখানো যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরনে ফিরনাস ভৃমিকা রাখবে। বৃটেনে ফিরনাসের হাব প্রতিষ্টায় ইতিমধ্যে লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহামের এয়ারপোর্ট অথরিটির সাথে প্রয়োজনীয় চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচচ অগ্রাধিকার দিয়ে ফিরনাছ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি। শুরুর দিকে এয়ারক্রাফট না কিনে লিজ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
হেড অব কর্পোরেট প্লানিং আব্দুল রকিব বলেন, কমিউনিটি অতীতে আরো কিছু উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় নানা প্রশ্ন আসাতে পারে-তবে আমরা যথার্থ পরিকল্পনা ও ইন্ড্রাস্ট্রির যোগ্যদের নিয়ে নেমেছেন।আর্থিক লাভ-ক্ষতি ও মার্কেট পরিস্থিতির আলোকেই এগোবে ফিরনাস এয়ারওয়েজ।
উল্লেখ্য শুরুতে ৩টি এয়ারক্রাফট নিয়ে যাত্রা শুরু হয়ে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ফিরনাসের বহরে যুক্ত হবে আরো ৫টি ব্রান্ড নিউ এয়ারক্রাফট। যা ২০২০ সালের মধ্যে মোট এয়ারক্রাফটের সংখ্যা দাড়াঁবে ৭টি। এ জন্য ফিরনাস ম্যানেজম্যান্ট ঠিম শ্রীগ্রই বাজারে মূলধন সংগ্রহে কাজ করবে। বোয়িং ৭৬৭ এয়ারক্রাফট লিজের জন্য ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহের চেষ্টা চালাবে।
এমএম





