বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাচার, বন্দিশিবিরে আটকে নির্যাতন ও গণকবর দেয়ার সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মানাস খংপায়েন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
স্থানীয় সময় আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানী ব্যাংককের পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশ প্রধান সমিয়ত পুম্পুনমুয়াংয়ের কাছে জেনারেল মানাস খংপায়েন আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শংখলার প্রাদেশিক পুলিশ অঞ্চল ৯-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
থাই সেনাপ্রধানের বরাত দিয়ে বুধবার দেশটির দ্য নেশন পত্রিকা ও এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মানাস খংপায়েনকে এর আগে সেনাবাহিনী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পৃথকভাবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগের তদন্ত করছে।
বুধবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে আত্মসমর্পনকালে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলেননি জেনারেল মানাস। তবে থাইল্যান্ডের পুলিশ প্রধান সমিয়ত পুম্পাংমাউং জানান, জেনারেল মানাস তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মানাস খংপায়ের বিরুদ্ধে ‘যথেষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে’ বলে জানিয়েছে থাই পুলিশ।
জেনারেল মানাস ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় চুম্পন প্রদেশের কমান্ডার ছিলেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে তিনি সংখলা প্রদেশের দায়িত্বে আসেন। চলতি বছর তাকে সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা হিসেবে সদর দফতরে বদলি করা হয়।
মানাস থাইল্যান্ডের যে এলাকায় কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন সেই সংখলা প্রদেশের সাদাও জেলার জঙ্গলেই অভিবাসীদের গণকবর ও নির্যাতন কেন্দ্রের খোঁজ পায় থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার মানাস খংপায়েনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে থাই পুলিশ। তিনি থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংখলা প্রদেশের পেদাং বেসার জেলার আদালতে বা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করতে পারেন।
মঙ্গলবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর মানাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘দয়া করে আমার বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন না। আপনারা সব তথ্য খুটিয়ে দেখুন এবং আমার বিষয়ে আদালতকে রায় দিতে দিন।’
অভিযোগ তদন্তে থাই পুলিশকে সহযোগিতা করবেন মন্তব্য করে মানাস বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাইনি এবং পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। আদালত যে রায়ই দেন না কেন আমি তা মেনে নেব।’
মানাসকে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রাইয়্যুথ চ্যান ওচা। সাধারণ নাগরিকদের মতোই তাকে বিচারের সম্মুখিন হতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
থাই সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উদমদেজ সিতাবুত্র জানিয়েছেন, মানাসের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে এবং তাকে কোনো বেতনও দেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবহিনীও তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
থাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপং পাওচিন্দা জানিয়েছেন, মানবপাচারের মতো বিষয়ে সেনাবাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ থাই সেনাবাহিনী ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
বিষয়টি থাই প্রধানমন্ত্রী প্রাইয়ুথ চ্যান ওচার জন্যও বিব্রতকর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত বছর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা প্রাইয়্যুত মানবপাচার বিষয়ে বহির্বিশ্ব থেকে চাপের মুখে রয়েছেন।
এসএইচ/এমএ





