ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ভেস্তে যাওয়া ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরই গাজার বাসিন্দা এবং সাংবাদিকদের মধ্যে যারা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তারা দেখছিলেন তখনও ইসরাইলি বোমার আঘাতে চুরমার হয়ে যাওয়া এক একটি ভবনের নিচে অসংখ্য দলিত-মথিত মৃতদেহ।

ইসরাইল ও হামাসের ৭২-ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সামান্য সময়ের জন্য মুক্তি পেয়েছিলেন গাজার বিপর্যস্ত মানুষগুলো। এর আগে একটানা তিন সপ্তাহের যুদ্ধে ১৪০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।

কিন্তু যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলের একতরফা উস্কানিতে পুণরায় যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি ফের আগের রুপ নেয়। 

তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধ বিরতির শুরুর ঘোষণা শুনে পরক্ষণেই নিজ বসতিতে ফিরতে শুরু করেছিলেন পূর্ব গাজার আলোচিত অঞ্চল সুজায়ায় বাসিন্দারা যারা ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাসিন্দাদের অনেকেই এসে দেখলেন তাদের ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণরুপে ধ্বংস করা হয়েছে।

আল জাজিরা টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ তাইয়েব যিনি সুজায়া থেকে সংবাদ পরিবেশন করছিলেন, তিনি জানান এই অঞ্চলে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

সাংবাদিক ইমতিয়াজ তাইয়েব আরও বলেন, আমি ভূমিকম্পের পর সেই অঞ্চলের সংবাদ কভার করেছি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলের সংবাদ কভার করেছি, কিন্তু এমন ধ্বংসযজ্ঞ আমি আর কখনও দেখিনি।

লাশের গন্ধে বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে-এমন মন্তব্য করে আল জাজিরার ওই সাংবাদিক বলেন, গত ২০ জুলাই গাজার জনবহুল অঞ্চল সুজায়ায় আগ্রাসন চালায় ইসরাইলি বাহিনী। তাদের সেই তীব্র হামলায় অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। এরপর থেকেই এই অঞ্চল অনেকটাই বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছিল।

ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি কবরস্থান:

গাজার উত্তর পশ্চিমের অঞ্চল বেইত হ্যানিউন। শহরটি এতটাই বিধ্বস্ত যে এর অধিকাংশ রাস্তার উপরই ধ্বংসস্তুপ। ইসরাইলি বোমার আঘাতে কমপক্ষে ১০টি ভবন এখানে সম্পূর্ণরুপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া এই অঞ্চলের আরও বহু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই অঞ্চল থেকে সংবাদ পরিবেশন করেছেন আল জাজিরার সাংবাদিক ওয়ায়েল দাহদাহ। তিনি বলেন, এমনকি এই শহরের কবরস্থান পর্যন্ত ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিক বলেন, একের পর এক বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কবরস্থানগুলোতে শায়িত বহু লাশের হাড়গোড় বাইরে বের হয়ে আসে।

এদিকে, যুদ্ধ বিরতি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাজার দক্ষিণে খান ইউনুসের কাছে খুযা গ্রাম থেকে বোমার শব্দ শোনা যায়। এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট এতটাই খারাপ ছিল যে আহতদের সরিয়ে নেয়ার জন্য এখানে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ঢুকতে পারছিলনা।

এই গ্রাম থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এসেছিলেন আল জাজিরার সাংবাদিক তামের মেশাল। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তুপ থেকে ২০টি মৃতদেহ টেনে বের করতে দেখেছেন তিনি নিজে। ধ্বংসস্তুপের ভেতরে আরও বহু লাশ চাপা পড়ে ছিল। (সূত্র: আল জাজিরা)

ঢাকা, ২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি