পুলিশের দুর্নীতির প্রতিবাদে মোহাম্মদ বোয়াজিজি নামে এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় যে আন্দোলনের সূচনা হয়।তা আরব বসন্ত নামে পরিচিতি পায়। আরব দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে ‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিত গণ-আন্দোলনের কারণে ২০১১ সালের পর থেকে ৬১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে। এমনই তথ্য দিল জাতিসঙ্ঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা।

তাদের রিপোর্টে বলা হয়, ক্ষতির এই পরিমাণ ২০১১ থেকে ২০১৫ সালে মধ্যে ওই দেশগুলোর মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৬ শতাংশ। ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বিন আলির ২২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।ক্ষমতা হারান মিশরের হুসনি মোবারক ।ক্ষমতাচ্যুত করা হয় লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফীকে, যেখানে এখনো গৃহযুদ্ধ চলছে ।বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সিরিয়ার বাসার আল আসাদ সরকারের সাথে বিদ্রোহীদের সংঘাত।

এই পথ ধরে উত্তর আফ্রিকা আর আরব দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে শুরু হয় দীর্ঘ দিনের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের দাবিতে গণ-আন্দোলনের ঝড়। যা ‘আরব বসন্ত’ নাম পায়। তিউনিসিয়ার পর মিসর, লিবিয়া ও ইয়েমেনেও স্বৈরশাসকের পতন দেখে বিশ্ব।

ওই অঞ্চলের যেসব দেশে আন্দোলন হয়নি, কিন্তু আরব বসন্তের কারণে উদ্বাস্তু, পর্যটনের দিক দিয়ে অনেক দেশকে ভুগতে হয়েছে। একই সময়ে সিরিয়ায় শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন জটিল এক গৃহযুদ্ধের রূপ নিয়েছে। ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর ওয়েস্টার্ন এশিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে যেসব দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, সেই সরকারগুলোও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

এনএম....