ইহুদি এবং মুসলমান সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির একটি নতুন উপায় খুঁজে বের করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের দুই ধর্মের নারীরা।

মসজিদ বা কোন সিনাগগে নয়, নিজেদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে তারা মিলিত হয়েছেন সেখানকার একটি সেলুন বা চুল কাটার দোকানে।

সেই দোকানে আসা অনেক নারীদের জন্য অন্য ধর্মের কোন নারীদের সঙ্গে পরিচিত হবার মতো অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।

মিখেলা ইহুদি ধর্মের অনুসারী। তিনি বলছেন, “ প্রথমে এই জায়গার কথা শুনে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠি, তাই এখানে আসতে শুরু করি। আসলে স্কুলে আমরা অন্য ধর্মের বিষয়ে জানতে পেরেছি, এবং আমি সবসময়েই এ বিষয়ে আগ্রহ বোধ করেছি। কিন্তু অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে মেলামেশার কোন সুযোগ কখনো পাইনি। এখন আমি সেটি পাবো বলেই আশা করছি"।
মুসলিম সিমি বলেন, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে ইহুদি ধর্মাবলম্বী কেউ কখনো ছিল না। এমনকি তিনি যখন স্কুলে পড়তেন, পুরো স্কুলেও একজন ইহুদি ছিল বলে মনে করতে পারেননি তিনি।

তিনি বলছেন, “ এখানে আসার আমন্ত্রণ পাবার পর মনো হলো, আমার অন্য ধর্মের কাজিনদের সাথে মেলামেশার এটা চমৎকার একটি সুযোগ”।

এই দোকানটিতে মুসলিম ও ইহুদি, দুই ধর্মের সবমিলিয়ে ত্রিশ জন নারী রয়েছেন। খুঁটিনাটি আলোচনার মাধ্যমেই ইহুদি আর মুসলমানের মধ্যেই দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘোচানো শুরু হবে বলে এখানকার নারীদের আশা।

সভাটিতে একজনের পর একজন তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন ফলে প্রত্যেকেই অন্যজন সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন, জানতে পারছেন।

প্রথমবারের মতো এই সেলুনে দুই ধর্মের নারীরা পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হলেন। এখানে এমন অনেকে রয়েছে, যাদের কেউ কেউ হয়তো কখনোই অন্য ধর্মের কারো সঙ্গে মিলিত হননি। এভাবে গড়ে ওঠা পরিচয় একসময় ঘনিষ্ঠতা গড়াবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা।

যারা এই মিলন সভার আয়োজন করেছেন, তাদের একজন এলেনর চোহান। তিনি বলেন গত অক্টোবর থেকেই আমি এই উদ্যোগটির তিনি জড়িত।

তার মতে , “যতদিন না আমরা পরস্পর সম্পর্কে জানবো, যতদিন আমাদের প্রথাগত ধারণা না পাল্টাবো, ততদিন পর্যন্ত তো কোন সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব না”।

এই সভার উদ্যোক্তাদের আশা, পরস্পরের জানাশোনার মাধ্যমেই দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে যেটুকু দূরত্ব বা অস্পষ্টতা আছে, তার অবসান হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ইআর