দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সদস্য দেশের সরকার প্রধানদের সবাই এখন নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবশেষ বেলা সোয়া চারটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি নেপাল এসে পৌছান। বিমান বন্দরে নেপালের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

এর আগে এ্রই  সম্মেলনে যোগ দিতে একে একে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি আহমাদজাই, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লিওনচেন শেরিং তবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়েমেন  নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌছেছেন।

সার্কভূক্ত ৮ দেশের সরকার প্রধানদের মধ্যে আয়োজক দেশ নেপালে সবার আগে পৌঁছেছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে।

তিনি স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় কাঠমন্ডুর ত্রিভূন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। যদিও তার আসার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল সাড়ে নটা। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের পোনে একঘন্টা পরে রাজাপাকসে কাঠমান্ডুতে পৌঁছান।

রাজাপাকসে আসার প্রায় সোয়া একঘন্টা পরে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক আলোচিত এবং পরবর্তীতে সার্কের স্থায়ী সদস্যপদলাভকারী দেশ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আফরাফ ঘানি এসে পৌঁছান হিমালয় কন্যা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। সকাল ১১টার দিকে কাম এয়ারলাইনস বোয়িং ৭৬৭ বিমানে চড়ে ঘানি আসেন নেপালে।

বিমানবন্দরে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাম দেভ গৌতম।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ফেডারেল ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রকাশ মান সিংহ।

এদিকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লিওনচেন শেরিং তবগে কাঠমান্ডুতে এসে পৌছেছেন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বাম দেভ গৌতম।

এদিকে বেলা দেড়টার দিকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়েমেন কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছেছেন।

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এসেছেন সার্কের সবচেয়ে বড় দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বাম দেভ গৌতম বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের লুম্বিনী সফর

এদিকে, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে নেপালের সেনাবাহিনীর এক বিমানযোগে লুম্বিনী সফর করেছেন। সেখানে রাজাপাকসের মায়াদেবীর মন্দীরে প্রার্থনা এবং আরও কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

নেপালর পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এবং প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষ্যে লুম্বিনিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার কিছু পর সার্কভূক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে সম্মেলনের তৃতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সার্ক কাউন্সিল অব মিনিস্টারস।

এ বৈঠকেই সার্ক বিদ্যুৎ সহযোগিতা চুক্তি বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, গতকাল (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো: শহীদুল হক জানিয়েছিলেন ওই চুক্তির ব্যাপারে খুব একটা অগ্রগিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী। পররাষ্ট্র সচিব মো: শহীদুল হকও তার সাথে বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠকে আরও অংশ নিয়েছেন আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারার আহমেদ ওসমানি, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিওনপো রিনজিব দরজি, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী সুশমা সরোজ, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দানিয়া মওমুন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহেন্দ্র বাহাদুর পান্ডে এবং শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক জি এল পেইরিজ। 

উল্লেখ্য, শনিবার (২২ নভেম্বর) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর হোটেল সল্টিতে সার্কভূক্ত আট দেশের যুগ্ম পররাষ্ট্র সচিবদের অংশগ্রহণে প্রোগ্রামিং কমিটির বৈঠকের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ১৮ তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা।

একই ভেন্যুতে পরদিন (রোববার) সার্ক সদস্যভূক্ত দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের উপস্থিতিতে দুই দিনের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দফার আনুষ্ঠানিকতা।

আগামী ২৬-২৭ নভেম্বর সার্কভূক্ত দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত পর্বের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনেই বিদ্যুৎ সহযোগিতাসহ হতে পারে সম্ভাব্য চুক্তিগুলো।

এবারের সার্কের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘Deeper Integration for Peace and Prosperity’ অর্থাৎ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গভীর যৌথ-প্রয়াস। তবে এই প্রতিপাদ্যের আলোকে কতটা যৌথ অংশীদারমূলক পরিকল্পনা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে সেটাই দেখার বিষয়।

জেআই

কাঠমান্ডুর হোটেল সল্টি থেকে