পাকিস্তানে সদ্য সাধারণ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান। ইতোমধ্যে সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আর এর জন্য জোট গঠনের প্রক্রিয়াও চালাচ্ছেন।
স্বাভাবিকভাবে একটি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটা নিয়ে পাশ্ববর্তী দেশের কিছুটা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা থাকে, থাকে কিছু স্বার্থ এবং জ্বালা-পোড়া। পাশ্ববর্তী দেশে নিজেদের অনুকূল একজন প্রধানমন্ত্রী থাকুক বা নির্বাচিত হোক এটি সব দেশই চায়।
কিন্তু ইমরানের জয় এবং তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে অবাক করার মতো আচরণ করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু মিডিয়া।
ইমরানকে নিয়ে ভারতে জ্বালা-পোড়া আগে থেকেই ছিল, কিন্তু পাকিস্তানের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইমরানকে নিয়ে শুরু থেকেই তাদের সংবাদ সম্পূর্ণ রীতিনীতি বহির্ভূত একটি আগ্রাসী মিডিয়ার ভূমিকায় ছিল।
তেমনই মিডিয়ার ভূমিকায় ছিল ’News18’ , যারা ইমরান খানের অপর নাম দিয়েছে 'তালেবান খান'। পাশাপাশি একটি লোকাল মিডিয়া তাকে 'সেনার পুতুল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মনোভাব প্রকাশ করেছিল 'Times Now' টেলিভিশন। যাদের লাইভ কাভারেজ ছিল ’ভারতের শত্রু ইমরান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে’।
আর টকশোগুলো ছিল তার চেয়েও বেশি গরম। বিশেষ করে আলোচনার কেন্দ্রবস্তু ছিল যুদ্ধের প্রতি ইমরানের সমর্থন এবং তার সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সাথে সম্পৃক্ততা থাকা না থাকা নিয়ে।
তারকা ক্রিকেটার হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ইমরান এরই মধ্যে রাজনীতির মাঠে পার করেছেন ২২ বছর।
তবে যার শরীর থেকে এখনো ক্রিকেটের গন্ধ যায়নি তিনি এত স্বল্প সময়ে পুরো দস্তুর রাজনীতি বনে যাবেন এবং শেষমেষ (ক্রিকেট) ব্যাট মার্কা নিয়েই পাকিস্তানের মতো একটি অস্থিতিশীল দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন এটা যেন কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না ভারতীয় কিছু মিডিয়া।
তাদের মতে এটা সেনাবাহিনীর হাতে তৈরি করে দেয়া সরকার এবং পাকিস্তানের গণতন্ত্রের জন্য একটি 'লজ্জা'।
একটি দেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এই ভূমিকাকে 'বলিউডের ভিলেন' বলে আখ্যা দেন ইমরান খান।
তিনি বিজয় ভাষণে তার সরকার ভারতের সাথে সর্বোচ্চ সম্পর্ক রাখার আশ্বাস দেন। যে কথাকে ভারতীয় প্রোগ্রাম হোস্টকারী ও গবেষকরা পূর্বপরিচিত 'স্ক্রিপ্ট' বলে উপহাস করে।
ইমরান বলেন, 'যদি আপনি এক পা এগিয়ে আসেন, আমি আপনার জন্য দুই পা এগিয়ে যাবো'।
এদিকে সংবাদ মাধ্যমগুলোর দলনের শিকার হলেও ভারতীয় ক্রিকেটার কপিল দেবের প্রশংসায় ভাসছেন ইমরান খান।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অধিনায়ক ইমরানকে অভিনন্দন জানিয়ে কপিল বলেন, ‘ইমরানের এই সাফল্যে আমি খুবই খুশি। আমি আশা করি তিনি যেমন দক্ষতার সাথে পাকিস্তান দলকে পরিচালনা করতেন, তেমনিভাবেই পাকিস্তান দেশকেও পরিচালনা করবেন। তিনি শুরু থেকেই সাফল্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন। টানা কঠোর পরিশ্রম করার সামর্থ্য তার রয়েছে। যার ফলে তিনি সবসময় সফলতা পেয়ে থাকেন।’
এসময় দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান চরম অবস্থার ব্যাপারেও কথা বলেন কপিল। ইমরান নিজের দায়িত্বে থাকাকালীন ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট সম্পর্ক উন্নয়নেও কাজ করবেন বলে আশা করছেন কপিল।
তিনি বলেন, ‘আমার মতে ক্রিকেটের চেয়ে দেশ অনেক বড়। আমি আশা করছি ভারত ও ইমরান সরকার দুই দেশের মধ্যকার বড় ইস্যুগুলো সমাধান করবে ও দুই দেশের মধ্যে আবারো শান্তি ফিরিয়ে আনবে।’
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ১১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে, ক্ষমতায় যেতে তাকে আরো ২০টি আসনের সমর্থন পেতে হবে।
আর এরইমধ্যে, এই নির্বাচনী ফলাফল বর্জন করেছে পাকিস্তানের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো।
এমনই বাস্তবতায় এককালের ক্রিকেট মাঠের সফল যোদ্ধা রাজনীতির মাঠে কতটা সফল হবেন, নিজের পক্ষে কাকে শেষ মেশ ভাগিয়ে আনতে সক্ষম হবেন সেদিকেই এখন নজর বিশ্লেষকদের। (সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, জিও নিউজ, ইন্টারনেট)
জেড/কেবি





