ব্রিটেনে বন্যা ও ঝড় জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়বহতার স্পষ্ট নিদর্শন বলে মন্তব্য করেছেন লর্ড স্টার্ন। ২০০৬ সালে দ্য ইকোনোমিকস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ এর লেখক তিনি।
স্টার্ন বলেন, ঝড় ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি আগামীতে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিয়োগান্তক ঘটনার মুখোমুখি না হতে  ব্রিটেন ও বাকি বিশ্বের জন্য নিম্ন মাত্রার কার্বন নীতি বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করেছে।
তিনি বলেন, ২০০০ সাল থেকে ব্রিটেনে সবচেয়ে আদ্রময় পাঁচটি বছর এবং সবচেয়ে উষ্ণময় সাতটি বছর অতিবাহিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যা দাঁড়ায়, তাপমাত্রা অতিবৃদ্ধিতে অধিক বৃষ্টিপাত হবে। আর একইসঙ্গে ইংলিশ চ্যানেলে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে বন্যার আশঙ্কাও বেড়ে যাবে।
স্টার্ন বলেন, ব্রিটেনের সাম্প্রতিক আবহাওয়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চরম বিরূপ আবহাওয়ার একটি অংশ। যা বলতে চায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ এবং আরও বলতে চায় কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমাতে হবে।
ব্রিটেনের এ গবেষক বলেন, ‘আমরা কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমাতে না পারলে আরো ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবো।’
গ্রানথাম রিসার্স ইনস্টিটিউট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড দ্য এনভাইরনমেন্টের চেয়ারম্যান স্টার্ন জানান, অস্ট্রেলিয়ায় গত বছর সবচেয়ে উষ্ণ বছর পার হয়েছে। এটি দেশটির জন্য রেকর্ড ছিল। ডিসেম্বরে একই অবস্থা বিরাজ করেছে আর্জেন্টিনাতেও। আর ব্রাজিলে হয়েছে বন্যা ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস।
ব্রিটেনে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল অন্তত ৮০ হাজার ঘরবাড়ির। উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যায় অসংখ্য মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে ২৫০ বছরের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে আর্দ্র শীতকাল চলছে।
আটলান্টিক মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বাতাসে গত বুধবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওয়েলস। সেখানে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে। অন্তত দেড় লাখ ঘরবাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাতভর চেষ্টায় ৭০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছিল। টেমস নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টেমসের পানি ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে ‘সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা’ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সূত্র: গার্ডিয়ান
[b]ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]