যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার দশকের মার্কিন রীতি ভঙ্গ করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলার পর চীন তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।

এর জবাবে এবার ট্রাম্প চীনকেই একহাত নিলেন। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে চীনের সমালোচনা করে একাধিক পোস্ট করেন তিনি।

টুইটগুলোতে ট্রাম্প দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বেইজিংয়ের নীতি ও কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন। টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, চীন তাদের মুদ্রার মূল্যায়ন কিংবা দক্ষিণ চীন সাগরে বড় ধরনের সামরিক কমপ্লেক্স বানাতে আমাদের সম্মতি নিয়েছে কি? আমার মনে হয় না সেটা করেছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য এবং ইউয়ানের অবমূল্যায়ন নিয়ে ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের সমালোচনা করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইউয়ানের অবমূল্যায়নের ফলে চীনা রফতানিকারকরা উপকৃত হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণাকালে বলেছিলেন, চীনা পণ্যের ওপর তিনি ৪৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করবেন।

১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা মার্কিন রীতি লংঘন করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে শুক্রবার সরাসরি কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘এক চীন নীতি’-র প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তবে মার্কিন প্রশাসন তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক বজায় রাখে।

রোববার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ‘চায়না ডেইলি’তে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয় ভাষ্যে বলা হয়, ‘এটা আদতে তার (ট্রাম্পের) ট্রানজিশন টিমের অনভিজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই না।’ সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক হঠকারিতা বিষয়েও শংকা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করে চীন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং হি সাইয়ের ফোন করাকে ‘পাতি কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন।

একটি শিক্ষাবিষয়ক ফোরামে রাখা বক্তব্যে ওয়াং বলেন, ‘এখানে কেবল তাইওয়ানের পক্ষ থেকেই পাতি কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

আর এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ‘এক চীন নীতির’ কোনো পরিবর্তন হবে না। আমি বিশ্বাস করি, এই ফোনের ফলে বহুদিন ধরে চলে আসা মার্কিন সরকারের এক চীন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

মাহমুদ