আন্তর্জাতিক মানব অঙ্গ (কিডনি) পাচারকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে ইসরাইলের অবস্থান শীর্ষে। সম্প্রতি জনসম্মুখে প্রকাশ হওয়া এক নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল (রোববার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক 'নিউইয়র্ক টাইমস' এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের মানব অঙ্গ (কিডনি) পাচারকারি চক্র বিদেশে কিডনি পাচার করে বিপুল অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া যেসব রোগী বেঁচে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং বিত্তশালী কোন দাতার কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পাচ্ছেন তাদেরকেই ক্রেতা হিসেবে বেছে নেয় ইসরাইল।
নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টার কেভিন স্যাক তার প্রতিবেদনের শুরুতেই দৃষ্টান্তস্বরুপ অফিরা ডরিন নামে এক ইসরাইলি নারীর ঘটনার উল্লেখ করেন। কত সহজেই ইসরাইলের পাচারকারীদের মাধ্যমে অবৈধ পথে কিডনি ক্রয় করা যায় সে ঘটনারই প্রমান দিতে ওই মহিলার বক্তব্য তু্লে ধরেছেন রিপোর্টার কেভিন।
অফিরা ডরিন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিনি একটি কিডনি প্রতিস্থাপক সার্জারিকে ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার প্রদান করেছেন। মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকায় এই কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এই মর্মে ওই সার্জারির সাথে ডরিনের চুক্তি হয়।
কোস্টারিকার একটি আদালত থেকে প্রাপ্ত গোপন দলিলের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৭ বছরের এক বেকার যুবকের কাছ থেকে ডরিনের জন্য কিডনি ক্রয় করা হয়। এ জন্য ওই যুবককে দেয়া হয় মাত্র ১৮ হাজার ৫ শ ডলার অথচ ডরিনের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয় ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদককে ডরিন আরও বলেন, " আমার পরিস্থিতি ছিল শোচনীয়। আমি ভালো বোধ করছিলাম না। অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ওই পরিস্থিতিতে আমি যদি জানতাম যে, আমি যেই প্রক্রিয়ায় কিডনি ক্রয় করছি তা অবৈধ, তাহলেও আমি ওই কিডনিই ক্রয় করতাম। বিকল্প কিছু ভাবার মতো অবস্থায় আমি ছিলাম না।"
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ২০০০ সাল থেকে বিশ্বে মানব অঙ্গ বিশেষ করে কিডনি পাচারের যেসব বড় বড় ঘটনা ঘটেছে তা বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, মানব অঙ্গ (কিডনি) পাচারের ক্ষেত্রে ইসরাইলের অবস্থান শীর্ষে। এক্ষেত্রে দেশটির ধারেকাছেও কেউ নেই।
ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেছেন, তার দেশের ১০ শতাংশেরও কম মানুষ অঙ্গ দানের ক্ষেত্রে তালিকাভূক্ত হয়েছেন। মৃত্যু এবং অপমৃত্যু সংক্রান্ত ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণেই ইসরাইলিদের মধ্যে অঙ্গ দানের হার ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
এদিকে, কোস্টারিকা কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, গত বছর তারা মানব অঙ্গ পাচারের একটি আন্তর্জাতিক চক্রের হদিস পেয়েছেন, যারা পূর্ব ইউরোপীয়ান দেশ এবং ইসরাইলে কিডনি বিক্রি করে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে অন্তত ১০ ইসরাইলিকে আটক করা হয়েছে, যারা মানব অঙ্গ (কিডনি) পাচারকারী চক্রের সদস্য হয়েছিলেন।
এদিকে, ২০০৯ সালে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এমন স্বীকারোক্তিও পাওয়া গিয়েছিল যে, ৯০এর দশকে ইসরাইল অনেক নিহত ফিলিস্তিনিদের অঙ্গ (কিডনি) চ্ছেদন করেছিল তাদের নিকটাত্মীয়দের অনুমতি ছাড়াই।
ঢাকা, ১৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





