রিয়াদে সৌদি আরবের নতুন বাদশাহ সালমানের সঙ্গে মঙ্গলবার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দুই নেতা ইরাক ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী জিহাদি গোষ্ঠ ইসলামি স্টেটের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ভারত সফর শেষ করে বিশাল এক প্রতিনিধি দল নিয়ে সৌদি পৌঁছান ওবামা। সে দেশের মরহুম বাদশাহ আবদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং নতুন বাদশাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতেই এ সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সফরের জন্য ভারতে নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করেন। ফলে আগ্রার বিখ্যাত স্থাপণা তাজমহল দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার।

মঙ্গলবার বিকেলে রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং তার পত্নী মিশেল ওবামাকে স্বাগত জানান বাদশাহ সালমান। সেখান থেকে বাদশাহর ব্যক্তিগত বাসভবন ইরগা রাজপ্রাসাদের উদ্দেশে রওয়ানা হন ওবামা। রাতে ওবামার সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন বাদশাহ সালমান।

পরে দুই নেতা এক ঘণ্টার বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে ইসলামি স্টেটের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান নিয়ে আলাপ করেন দুই নেতা।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা এবং আরব দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত এই সামরিক জোটের অন্যতম সদস্য হচ্ছে সৌদি আরব। গত কয়েক মাস ধরে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে এই জোট।

এছাড়া বৈঠকে ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিশ্ব তেল বাজারে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলাপ করেন তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি আরো জানায়, ওবামা দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘেণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে সৌদি ব্লগার রাইফ বাদাবিকে কারাদণ্ড দেয়ার ইস্যুটি উল্লেখ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসলাম অবমাননার অভিযোগে গত মে মাসে ব্লগার বাদাবিকে ১ হাজার দোররা এবং দশ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হচ্ছে সৌদি আরব। গত প্রায় ৭০ বছর ধরে দু দেশের মধ্যে এই কৌশলগত সম্পর্ক। বিবিসির সেবাস্টিয়ান আশার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সৌদি আরবের গুরুত্ব কতটা তা প্রেসিডেন্ট ওবামার সফরসঙ্গীদের তালিকাটা দেখলেই বোঝা যায়। এ সফরে ৩০ জনের এক বিশাল মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওবামা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, ফাস্ট লেডি মিশেল ওবামা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস এবং জেমস বেকার, সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান, জন ম্যাককেইন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রেন্ট স্কাউক্রফট। এবং আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নেতারা।

তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক বেশ কিছু টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেছে।

কিন্তু ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে ইসলামিক স্টেটের উত্থানের নতুন হুমকির মুখে তারা আবার এক হয়েছেন। সৌদি আরব ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হলেও তারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসদের বিদায় দেখতে চায় এবং মনে করে তাকে ক্ষমতায় রেখে কিছুতেই ইসলামিক স্টেটকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। এছাড়া নিম্নমুখী তেলের দাম এবং ইরানের সাথে বিকাশমান মার্কিন সম্পর্ক নিয়েও উদ্বিগ্ন রিয়াদ।