রাজ্যের সাধারণ বাজেট পেশ নিয়ে বিধানসভার চেয়ার-টেবিল ভাংচুরসহ মারামারিতে আহত হয়েছেন ৯ বিধায়ক। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন ১২ নিরাপত্তারক্ষীও। ভারতের কেরালা রাজ্যের বিধানসভায় শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এ দিন বিধানসভায় দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অর্থমন্ত্রী কে এম মানিকে বাজেট পেশ করতে না দেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেন বিরোধীরা। দাবি বাস্তবায়নে বিধানসভার ভেতরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন তারা। ভাংচুর করা হয় স্পিকারের টেবিল। স্পিকারের সামনে থেকে মাইকও খুলে ফেলে দেন।

এক পর্যায়ে মার্শালদের সঙ্গে বিরোধী বিধায়কদের হাতাহাতি ঘটে। হাতাহাতিতে আহত হন নয় বিধায়ক। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী।

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই এলডিএফের বিধায়করা বিধানসভার দরজা আটকে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় স্পিকারকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যেই ভেতরে ঢুকে যান অর্থমন্ত্রী। তাকে বাধা দিতে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিরোধীদের হাতাহাতি শুরু হয়।

একই দিন গণ্ডগোল হয় বিধানসভার বাইরেও। যুব মোর্চা ও এলডিএফ সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়ে পুলিশ। এক পর্যায়ে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এত কিছুর পরও বাজেট পেশ থেমে থাকেনি। তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী কে এম মানি।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী কে এম মানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করে ভিজিল্যান্স এবং দুর্নীতি দমন শাখা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে মদের লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি কীভাবে রাজ্যের বাজেট পেশ করেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। এই নিয়ে বিরোধী দল এলডিএফ (লেফট ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট) এর সঙ্গে শাসকদল ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমক্র্যাটিক ফ্রন্ট) এর সংঘাত চরমে ওঠে। এলডিএফের পক্ষে পথে নামে যুব মোর্চা।

অন্যদিকে যে কোনোভাবে অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে বাজেট পেশ করানোই ছিল ইউডিএফের লক্ষ্য। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্পিকার এন সাখতান।

ইআর