অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতারকে গৃহ কর্মীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ বলে বর্ণনা করেছে।
তারা কাতারের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, যৌন নিপীড়ন এবং জোর করে কাজ করানোর অভিযোগ করেছে।
‘আমার ঘুম, আমার বিরতি : কাতারে গৃহকর্মী শোষণ’ শীর্ষক অ্যামনেস্টির রিপোর্টে দুঃসহ নিপীড়নের কিছু করুণ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, কিছু মহিলাকে কিল-ঘুষি মারা ও চোখে আঘাত করা হয়। অনেককে লাথি মেরে সিঁড়িতে ফেলে দেয়া হয়। এর মধ্যে ৩ জন বলেছে, তাদের যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।
কাতারের আইনে গৃহকর্মী ও অন্য শ্রমিকদের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট এই বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক এই দেশটি মাল্টি বিলিয়ন ডলারের অব-কাঠামো নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ও কাজের পরিবেশ উন্নত করতে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিকালে নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে গৃহকর্মীদের অবস্থার চিত্রও উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে কিছুই হয়নি উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি বলেছে, কাতারকে শ্রমিকদের অধিকার মাড়িয়ে যাওয়া বন্ধ করে অবিলম্বে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গৃহকর্মীদের আইনগত সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
অ্যামনেস্টির শ্লোগান ইস্যু পরিচালক অড্রে গাউযারান বলেন, প্রবাসী গৃহকর্মীরা বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়। এই ব্যবস্থায় তাদের কোন অধিকার নেই। এর ফলে তাদেরকে কাজে বাধ্য হওয়া ও মানব পাচারসহ শোষণ এবং অসদাচরণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অনেক মহিলা বলেছে তারা চলে যেতে চাইলে মনিব তাদেরকে শারীরিক নির্যাতনের ভয় দেখায়।
কাতারে প্রায় ৮৪ হাজার গৃহকর্মী রয়েছে। এর অধিকাংশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দা। তাদের অনেককে সপ্তাহে ১শ’ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।
দেশটির আইনে গৃহস্থালী শ্রমিকদের কর্মঘণ্টার সীমা নেই। তাদের সাপ্তাহিক ছুটিও নেই। এমনকি এ ব্যাপারে কোন শ্রমিকের শ্রম মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দায়েরও কোন এক্তিয়ার নেই।
অনেকে নিপীড়ণে জর্জরিত হয়ে বিচারের আশায় অভিযোগ দায়ের করলেও তাদের মনিবরা সব সময় বিচার ও শাস্তির হাত থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে যান। যেসব গৃহকর্মী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তাদেরকে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করে কারাবাস শেষে দেশে যেতে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টে মনিবের যৌন লালসায় একজন মহিলা গৃহকর্মীর কিভাবে দু’পা ভেঙ্গেছে ও মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছে, এর বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়, ওই মনিবের যৌন আক্রমণের শিকার হয়ে মহিলাটি জানালা দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়লে তার দুই পা ভেঙ্গে যায় ও মেরুদণ্ডে আঘাত পায়। কিন্তু তার মনিব এই আহত অবস্থায়ও তাকে রেহাই দেয়নি। অ্যাম্বুলেন্স খবর দেয়ার আগে আহত এই শ্রমিকের উপর মনিব তার যৌন লালসা চরিতার্থ করে। এ ঘটনার ৬ মাস পরেও ওই শ্রমিককে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে দেখা যায়। এজন্য তার মনিবের কোন শাস্তি হয়নি।
কোন মহিলা গৃহকর্মী যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে উল্টো তাকে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ দিয়ে এক বছর জেল খাটিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
কাতার অবশ্য বিশ্বকাপ ভেন্যু তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে অধিকার সংরক্ষণ গ্রুপগুলো সবসময় দেশটির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ বিদেশী শ্রমিকের অধিকার খর্বের অভিযোগ করে আসছে। সূত্র: বিএসএস
[b]ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]
আন্তর্জাতিক
কাতারে গৃহকর্মীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ অ্যামনেস্টির
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতারকে গৃহ কর্মীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ বলে বর্ণনা করেছে। তারা কাতারের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, যৌন নিপীড়ন এবং জোর করে কাজ করানোর অভিযোগ করেছে।





