ভয়াবহ দাবানলে জ্বলছে 'পৃথিবীর ফুসফুস' বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন অ্যামাজন। স্থানীয় পশুপালক, কাঠুরে ও কৃষকদের দেওয়া আগুন থেকেই এ দাবানল সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ও গবেষকরা।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএনপিই) জানিয়েছে, এবছর ব্রাজিলে আগুন লাগার ঘটনা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। গত বছর এ সময়ে আগুন লেগেছিল ৪০ হাজারবারের মতো। এবার এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজারেরও বেশি, যার অর্ধেকই ঘটেছে অ্যামাজন অঞ্চলে। স্যাটেলাইটের পাঠানো ছবিতেও ধরা পড়েছে বনের বিশাল অংশ উধাও হওয়ার চিত্র।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অক্সিজেন তৈরি করে অ্যামাজন। এ কারণে, এটিকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড জানিয়েছে, অ্যামাজন যদি এভাবে জ্বলতেই থাকে, তাহলে একসময় সেটি উল্টো কার্বন নিঃসরণ শুরু করতে পারে।

শুষ্ক আবহাওয়া, প্রবল বাতাস ও গরমের কারণে অ্যামাজনে আগুন লেগেছে বলে দাবি করেছেন ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী রিকার্ডো সালেস। কিন্তু, সিএনএনের আবহাওয়াবিদ হেইলি ব্রিঙ্ক বলেন, এটি অবশ্যই মনুষ্য-সৃষ্ট। একে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলার সুযোগ নেই। এবারের আগুনের ঘটনাও প্রচলিত কৃষিভিত্তিক কারণের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গাছপালা সব শুকনো, আগুন লাগানোর এটাই সেরা সময়। কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করে আর আগুন লাগিয়ে জমি পরিষ্কার শুরু করে, যেন তাদের পশুগুলো চরানো যায়। আমাদের ধারণা, অ্যামাজনে সেটাই চলছে।

আগামী সেপ্টেম্বরে গরমের মৌসুম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

জেড