যুদ্ধ বিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ছুটে আসা হাজার হাজার শরণার্থীদের উপর স্টান গ্রেনেড ছুঁড়েও তাদেরকে থামাতে না পেরে অবশেষে সীমান্ত খুলে দিল মেসিডোনিয়ার পুলিশ।
আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু সিমন্স মেসিডোনিয়ার সীমান্ত এলাকা গেভজেলিজ থেকে জানিয়েছেন, শরণার্থীরা মেসিডোনিয়া থেকে সার্বিয়া যাওয়ার জন্য ট্রেনে চড়ে বসেছেন।
উদ্বাস্তু মানুষগুলো আশা করছেন, সার্বিয়া হয়ে তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য হাঙ্গেরিসহ অন্য দেশগুলোতে যেতে পারবেন।
হাজার হাজার শরণার্থীরা কোনো বাধা ছাড়াই মেসিডোনিয়ার সীমানা পার হয়েছেন। পুলিশ টানা একদিন তাদেরকে ফেরাতে স্টান গ্রেনেড ছুঁড়েও ব্যর্থ হওয়ার পর তারা শরণার্থীদেরকে ছেড়ে দেন।
আল জাজিরার জোনাহ হাল গ্রিসের সীমান্ত এলাকা ইদোমেনি থেকে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার রেল লাইন পুনরায় সচল হয়েছে।
তিনি বলেন, "এটা এখন শান্ত হয়েছে। মেসিডোনিয়ার পুলিশ ছোট ছোট দলে তাদেরকে যেতে দেওয়ায় সবাই নির্বাধায় সীমান্ত পার হতে পারছেন।"
তিনি আরো বলেন, "শরণার্থীরা লাইনের পর লাইন বেধে চলে যাচ্ছেন। তাদের এই যাত্রা, থামার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।"
রোববার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা সীমান্তে শরণার্থীদের সাথে থাকা জিনিসপত্র ও ব্যাগ চেক করছেন।
জোনাহ হাল বলেছেন, "রেল লাইনের পার্শ্ববর্তী ২-৩ একর জায়গায় মানুষের বর্জ্য, ফেলে রাখা তাবু, পরিত্যক্ত ব্যাগ, জামা কাপড়, শিশুদের খেলনা ও খালি পানির বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। সেগুলো ভারী খননযন্ত্র দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে।"
শনিবার রাতে শত শত মানুষ খোলা মাঠ দিয়ে দ্রুত বেগে সীমান্ত পার হতে পারলেও অনেকে গ্রিসে ফিরে গিয়ে সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কারণ মেসিডোনিয়ার পুলিশের আঘাতে তারা আহত হয়েছেন।
এক সিরিয়ান শরণার্থী আল জাজিরাকে বলেছেন, যখন তারা সিরিয়া থেকে চলে এসেছেন তখন তারা প্রত্যাশা করেননি যে এমনটা ঘটবে।
তিনি বলেন, "আমরা শুধু সীমান্ত পার হয়ে চেয়েছি। অন্তত যারা অসুস্থ্য এবং যাদের সঙ্গে ছোট বাচ্চা আছে তাদেরকে যেতে দিতে বলেছি। আমরা মানুষ; পশু নই। আমরা মৃত্যুকূপ থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে কি সীমান্ত পুলিশ বা ঠাণ্ডায় মরতে এসেছি?"
তিনি আরো বলেন, "আমাদের দেশে যুদ্ধ হচ্ছে, এটা কি আমাদের অপরাধ? এটা ঠিক না।"
আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, "আমরা তাদের কাছে কিছুই না। আমাদের পাসপোর্ট কিছুই না। একটু কল্পনা করুন - এখানে যদি আপনি হতেন, আর আমাদের জায়গা হত। আমাদের বাচ্চা আছে। আপনাদের কি কোনো বাচ্চা নেই? আপনি কি এমন সহায়তা চাইবেন না?"
সিরিয়ার ইদলিব থেকে আসা আরেক শরণার্থী আহমেদ সাতুফ বলেন যে তিনি মেসিডোনিয়া থেকে কোনো কিছু চান না। শুধু সীমান্ত পার হতে চান।
তিনি বলেন, "আমি কোনো সন্ত্রাসী নই। আমরা মানুষ। কোথায় মানবতা? কোথায় বিশ্ব? এখানে যারা আছেন, সবার পরিবার আছে।
"আমাদের কোনো কিছুর দরকার নাই। আমাদের অর্থের দরকার নাই। শুধু সীমান্ত পার হতে দেন। আমরা জার্মানি যেতে চাই।"
জেডআই





