ইসরাইলের দিমুনা পরমাণু স্থাপনার এক কর্মী অনশন ধর্মঘট করছেন। চাকরিক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যার প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছেন ওই কর্মী।

তেল আবিবে ইসরাইলি পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে তাঁবু গেড়ে ইহুদ বেন-হামু নামের এ কর্মী গত সোমবার অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। এক বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকায় এবং অন্য কোথাও তার চাকরি নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘটে নামেন তিনি।

দিমুনা পরমাণু স্থাপনার যান্ত্রিক সরঞ্জাম শাখার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত বিভাগীয় উপ প্রধান পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ইহুদ বেন-হামু। দিমুনা পরমাণু কেন্দ্রের ভুয়া পে রোলের ঘটনা ফাঁস করে দেয়ায় চাকরি ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন তিনি। পদের দিক থেকে তাদে নীচের দিকে নামিয়ে দেয়া হয় এবং তিনি কাজ-কর্মে খারাপ বলে অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে এক বছরের জন্য বিনা বেতনে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়। এ ছাড়া, তার অন্য চাকরি গ্রহণের ওপরও বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।

ফলে পরিবার নিয়ে ইহুদ বেন-হামুকে প্রচণ্ড কষ্টে পড়তে হয় এবং ব্যাপক ধার-কর্জে জড়িয়ে পড়েন তিনি। চাকরি ক্ষেত্রের সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। হামুর স্ত্রী ও সন্তানরা এ ধর্মঘটে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এদিকে, দিমুনা কেন্দ্রের বহু কর্মী পরমাণু কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এসব অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মস্থলে বিকিরণের সংস্পর্শে আসায় তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ পরমাণু স্থাপনার বিকিরণ থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও তা শেষ পর্যন্ত পূরণ করা হয় নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

প্রায় ৫০ বছরের পুরনো দিমুনা পরমাণু কেন্দ্র থেকে বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এ বিকিরণ জর্দান, সিরিয়া, মিশর এমনকি লিবিয়া পর্যন্ত চলে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র:আইআরআইবি

জেডআই