পণ্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষ ও শিকাগোতে স্বামী বিবেকানন্দের দেওয়া বক্তব্যের ১২৫তম বর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান সম্প্রতি এক নির্দেশনায় সেই ভাষণ প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শোনানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনাবে না তারা।

আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এক কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেয়।

তাতে বলা হয়, দেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে টেলিভিশনের ব্যবস্থা করে ওই ভাষণ সরাসরি শোনাতে হবে। এ জন্য দেশজুড়ে সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে টিভির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে এই ভাষণ শোনানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রজেক্টর মেশিনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

রাজ্য সচিবালয় নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশিকা পাইনি।

রাজ্য মানবে না এ নির্দেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা তো তুঘলকি কাণ্ড! ইউজিসির এই নির্দেশ শিক্ষায় গৈরীকরণের এক প্রচেষ্টা।

শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, সংবিধানে শিক্ষা বিষয়টি যৌথ তালিকাভুক্ত। অর্থাৎ শিক্ষাসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে নিতে হবে।

স্বামী বিবেকানন্দের চেয়ে পণ্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায় বড় ব্যক্তিত্ব কি না—সেই প্রশ্নও তোলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে চিঠি দিয়েছে, তাতে প্রথম নাম হিসেবে এসেছে দীন দয়াল উপাধ্যায়ের নাম।

তারপর স্বামী বিবেকানন্দের নাম। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ শুধু এ দেশের নন, গোটা পৃথিবীর এক আদর্শ পুরুষ।

এর আগে শিক্ষক দিবসেও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। তা ছাড়া গত ১৫ আগস্ট স্কুলগুলোতে স্বাধীনতা দিবস পালনের তথ্যও দিল্লিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রাজ্য সরকার।

এএস