দীর্ঘ প্রায় আট মাসের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে দিল্লিতে আবার বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ভারতের মন্ত্রিপরিষদ মঙ্গলবার দিল্লির বিধানসভা ভেঙ্গে দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে লে. গভর্নর নাজিব জংয়ের ৭০ সদস্যবিশিষ্ট সভা ভেঙ্গে ফেলার সুপারিশ মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে ভারতের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেস এবং দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে গতবারের বিজয়ী দল আম আদমী পার্টি (এএপি) বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার গঠন সম্ভব নয় বলে দিল্লির গভর্নর নাজিব জংকে জানিয়ে দেয়।
রাজনৈতিক দলগুলো বিধানসভা ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের জন্য গভর্নরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তিনি বিষয়টি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে অবহিত করেন।
মন্ত্রিপরিষদের এই অনুমোদনের ফলে বিধানসভা নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হল। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দিল্লি রাষ্ট্রপতির শাসনে ছিল।
দীর্ঘ একমাস সরকার গঠনের প্রচেষ্টার পর বিজেপি জানায়, তারা সরকার গঠন করতে পারছে না। দিল্লিতে বিজেপি ২৯ টি আসন পেয়েছে যা সরকার গঠনের জন্য ৩৬ টি আসনের চেয়ে অনেক কম।
গত শুক্রবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অবিলম্বে দিল্লিতে বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু কোনো দলই এককভাবে পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ায় এবং যৌথ সরকার গঠনের ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আবার নির্বাচনের এই পরিস্থিতি তৈরি হলো।
ভারতে এক দশকের মধ্যে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে কোনো রাজ্যে দ্বিতীয়বার বিধানসভা নির্বাচনের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে বিহারে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং অক্টোবরে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দিল্লির বিধানসভার নতুন নির্বাচনের পক্ষে আছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি এবং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের বিশ্বাস আবার নির্বাচন হলে তারা নিরঙ্কুশ জয় পাবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর দিল্লির বিধানসভার ৭০টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে প্রধান তিন দলের কোনোটি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পেতে ব্যর্থ হয়। পরে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সেখানে সরকার গঠন করে এএপি। কিন্তু বিধানসভার প্রতিশ্রুত জন লোকপাল বিল পাস করাতে না পারায় চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল পদত্যাগ করার পর দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়।
এমএ





