পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হলেও খোদ নিজের দেশেই খুব একটা জনপ্রিয় নন পাক তরুণী মালালা ইউসুফজাই। সম্প্রতি শান্তিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর পাকিস্তানীদের মধ্যে মালালা বিদ্বেষ যেন আরো বেড়ে গেছে।

এখন তারা ‘মালালা বিরোধী দিবস’ পালন করতে শুরু করেছে। গত বছর মালালার প্রকাশিত আত্মজীবনী " আই্ এম মালালা" বইয়ের অনুকরণে দিবসটির নাম দেয়া হয়েছে 'আই অ্যাম নট মালালা'।

সোমবার পাকিস্তানের এক স্কুল সংগঠন মালালার প্রতি নিজেদের ঘৃণা প্রকাশ করতে ওই দিবস পালন করেছে।

এ দিবসের আয়োজক পাকিস্তানের স্কুল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মির্জা কাশিফ আলি এক বিবৃতিতে বলেছেন,' সালমান রুশদি আর তসলিমা নাসরিনের সমগোত্রীয় মালালা এবং সে সালমান রুশদির ক্লাবেরই একজন সদস্য।'

তিনি অভিযাগ করেন, মালালার লেখা বইয়ের সহলেখক ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্রিস্টিনা ল্যাম্ব ব্রিটিশ সাহিত্যিক সালমান রুশদির দারুণ ভক্ত।

তিনি আরো বলেন, আমরা শুরু থেকেই মালালার বইয়ের সমালোচনা করে আসছি। আর এজন্যই আমরা মালালা বিরোধী দিবস পালন করছি।

গত বছর তার আত্মজীবনী প্রকাশিত হওয়ার পরপরই পাকিস্তানের বেসরকারি স্কুলগুলোতে সেটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের ধারণা, ইসলাম বিরোধী মনোভাব থেকেই লিখিত হয়েছে 'আই অ্যাম মালালা'বইটি ।

২০১২ সালের অক্টেবর মাসে তালেবানদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান মালালা। পরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নেয়ার পর দ্রুত সেরেও ওঠেন। নারী শিক্ষার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য সম্প্রতি শান্তিতে নোবেলও পেয়েছেন এই কিশোরী।

তবে পাকিস্তানের অনেকে মনে করেন, মালালা পশ্চিমাদের চর। পাকিস্তান এবং ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর জন্যই তাকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসের কারণে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রুশদিকে একদমই পছন্দ করেন না।ইসলাম এবং মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স:)কে কটাক্ষ করে বইটি লেখার কারণে ১৯৮৯ সালে ইরান সরকার তাকে হত্যারও নির্দেশ দিয়েছিল। প্রাণভয়ে তখন দীর্ঘদিন আত্মগোপণে ছিলেন ওই লেখক।

এছাড়া, বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার ‘লজ্জা’ উপন্যাসের কারণে দেশে গোড়া মুসলমানদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন এবং ১৯৯৪ সালে প্রাণ ভয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।

পাকিস্তানেও ব্লাসফেমি আইন বেশ কঠোর। এই আইনে দোষী সাব্যস্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ইআর