ভারত-শাসিত কাশ্মীরে হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা বুরহান ওয়ানি এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার তিনদিন পরেও গোটা উপত্যকা জুড়ে চরম উত্তেজনা অব্যাহত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আজ ৩৩ শে পৌঁছেছে। পুরো কাশ্মীরে স্তব্ধ হয়ে আছে স্বাভাবিক জনজীবন।
গতকাল ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়ি ঝিলম নদীতে ঠেলে ফেলে দেওয়ার পর পুলিশ কর্মীরা ডুবে মারা গেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি সামলাতে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গেও কথা বলছেন। শ্রীনগরে রাজ্য সরকার উপত্যকায় শান্তি আনতে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদেরও সাহায্য চেয়েছেন।
মাত্র ২২ বছরের যুবক বুরহান মুজফফর ওয়ানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যাওয়ার পর কাশ্মীর যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, সাম্প্রতিককালে তার কোনও নজির নেই।
মি. ওয়ানির জানাজায় উপত্যকা জুড়ে মানুষের ঢল নেমেছে, শত শত যুবক পুলিশ ও সেনাদের উদ্দেশে পাথর ছুঁড়েছে।
স্থানীয় মসজিদগুলো থেকে ভারত-বিরোধী শ্লোগান তোলা হচ্ছে। চলছে লাগাতার কারফিউ, এবং এই অচলাবস্থা থামার কোন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, “ভারত সরকারের ওপর সবার আস্থা রাখা উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পাথর ছোঁড়াও এখন থেমেছে,
জিতেন্দ্র সিং বলেন, আমরা সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষারও ব্যবস্থা করছি।”
কিন্তু মৃত বুরহান ওয়ানি যেভাবে পুরো কাশ্মীরের ক্ষুব্ধ যুবসমাজকে আবার পথে টেনে এনেছেন, উপত্যকায় বহুকাল সেরকম কিছু ঘটেনি।
তিনি বলেন, “দেখুন, বুরহান ওয়ানি উগ্রপন্থার নতুন চেহারা হিসেবে ভীষণ বিখ্যাত হয়েছিলেন সন্দেহ নেই, তার মৃত্যুতে যুবকরা তো পথে নামবেই। কিন্তু সেই সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, না-পাওয়া এবং তাদের দাবিদাওয়ার প্রতি দিল্লির লাগাতার
উপেক্ষার প্রতিবাদও তারা করছেন এই পথেই। এই বিক্ষোভ তো অকারণে হতে পারে না – সেই কারণটার নিষ্পত্তি না-হলে আমাদের যুবকরা এভাবেই প্রাণ হারাতে থাকবেন।”
এই ক্ষুব্ধ যুবকরাই রবিবার পুলিশসুদ্ধু একটি গাড়িকে নদীতে ঠেলে ফেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও অন্যরা কেউ কেউ বলছেন, জনতার ছোঁড়া পাথর থেকে বাঁচতে গাড়ি ঘোরাতে গিয়ে চালকই গাড়িটি নদীতে নিয়ে ফেলেন।
যাই ঘটে থাকুক, নিরাপত্তা বাহিনী ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ এখনও চরমে – শ্রীনগর থেকে বিবিসিকে বলছেন, আজও মানুষ কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নামছেন।
অন্য দিকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দাবি করছে, বুরহান ওয়ানিকে মারা তাদের লক্ষ্য ছিল না
এসএম





