ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসী। তাই গাজায় চলমান অপারেশনের সময় ইসরাইলের উচিত ফিলিস্তিনের সব মায়েদের হত্যা করা। নিশ্চয়ই এমন মন্তব্যে অনেকেই হতবাক হয়েছেন। বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে অনেকেই হয়তো ভাবেছেন, যখন বিশ্বের কোটি কোটি বিবেকবান মানুষের হৃদয় হাহাকার করে উঠছে গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ দেখে, তখন এমন মন্তব্য কার মুখে শোভা পায়? খবর: প্রেসটিভি।
হ্যা, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এমনই নিষ্ঠুর ও মানবতার প্রতি চরম আঘাতমূলক মন্তব্যগুলো করেছেন ইসরাইলের একজন অত্যন্ত পরিচিত রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য। ইসরাইলি এই জঘণ্য নারী আইন প্রনেতার নাম আয়েলেত শেখড। ইসরাইলের উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ‘জিউস হোম পার্টি’-র একজন সদস্য তিনি।
গাজায় যখন ছোট্ট ছোট্ট নিস্পাপ শিশুদের পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করছে যায়নবাদী ইসরাইলী সন্ত্রাসীরা, তখন ফিলিস্তিনের মায়েদের জবাই করার আহবান জানিয়ে ইসরাইলি ওই নারী সংসদ সদস্য বলেন, এসব মা এক একটি ছোট্ট সাপের (little snakes) জন্ম দিচ্ছে।
“তাদেরকে (ফিলিস্তিনি মায়েদের) অবশ্যই মরতে হবে এবং তাদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করতে হবে যাতে আর কোন সন্ত্রাসীর জন্ম দিতে তারা না পারেন”-এমন মন্তব্য করে ইসরাইলি সংসদ সদস্য আরও বলেন, “তারা (ফিলিস্তিনিরা) আমাদের শত্রু এবং আমাদের হাতেই তাদের রক্ত ঝড়া উচিত। আর এ কথা ওইসব সন্ত্রাসীদের মায়েদের বেলায়ও প্রযোজ্য।”
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ ধরনের মন্তব্যকে গণহত্যার আহবান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ ইসরাইলের সংসদ সদস্য সমস্ত ফিলিস্তিনিদের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের অবশ্যই হত্যা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইলের এই সংসদ সদস্য সোমবার তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এসব মন্তব্য করেছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইসরাইলী সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ আরও বলেন: “প্রত্যেক (ফিলিস্তিনি) সন্ত্রাসীর পক্ষে ডজন ডজন পুরুষ ও নারী অবস্থান নেয়। আর এসব পুরুষ ও নারীর সহযোগিতা ছাড়া ওই সন্ত্রাসীরা তাদের কার্যক্রম চালাতে পারতো না। তারা (ফিলিস্তিনিরা) সবাই আমাদের শত্রু। তাদের মাথায় তাদেরই রক্ত ঢেলে দিতে হবে। আমাদের হাতে নিহত ফিলিস্তিনিদের মায়েদের বেলায়ও এ কথা প্রযোজ্য”।
ইসরাইলিদের হাতে নিহতরা জাহান্নামে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করে ওই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “ফিলিস্তিনের ওইসব মায়েরা তাদের (সন্তানদের) চুম্বন দিয়ে ও ফুলের তোড়া হাতে দিয়ে জাহান্নামের দিকে আহবান জানাচ্ছে। তাই তাদের সন্তানদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, ওই মায়েদেরও সেপথেই পাঠাতে হবে। আর এটাই হবে সবচেয়ে বড় ন্যায়বিচার”।
ইসরাইলি ওই সংসদ সদস্য বলেন, “ফিলিস্তিনের ওইসব মায়েদের তাদের বাড়িঘরসহ সমূলে ধ্বংস হওয়া উচিত। কারণ ওইসব বাড়ি-ঘরেই তারা তাদের সাপগুলোকে (সন্তানদের) পেলেপুষে বড় করছে। এখনই এসব মায়েদের হত্যা না করলে বিষধর সাপের (ফিলিস্তিনি শিশু) সংখ্যা বাড়তেই থাকবে”।
প্রেসটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে তখনই এমন মন্তব্য করলেন ইসরাইলের একজন জনপ্রতিনিধি।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেফ তায়েপ এরদোগান ফিলিস্তিদের ওপর ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলে বলেন, ইসরাইলের কর্মকান্ড স্পষ্টরুপে রাষ্ট্র সন্ত্রাসের পর্যায়ে পড়ে। তেল আবিবের এমন নিষ্ঠুরতায় বিশ্ব মোড়লদের নিরবতারও কঠোর সমালোচনা করে এরদোগান।
ইসরাইলী সংসদ সদস্য আয়েলেত শেখডের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এরদোগান বলেন, গাজায় ইসরাইলের নীতির সাথে হিটলারের মানসিকতার কোন পার্থক্য নেই।
একজন ইসরাইলের নারী বলছেন ফিলিস্তিনের মায়েদের হত্যা করা উচিত এবং সেই নারী ইসরাইলের সংসদেরই একজন সদস্য-এই পরিস্থিতির সাথে হিটলারের পার্থক্য থাকলো কোথায়? বিশ্ব বিবেকের কাছে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগান এমন প্রশ্নও করেন।
ইসরাইলের ক্রমাগত আক্রমনের ফলের ফিলিস্তিনের মা ও শিশুরা ব্যাপকহারে প্রানহানীর শিকার হচ্ছেন-জাতিসংঘের এমন মন্তব্যের পর পরই ইসরাইলের মহিলা সংসদ সদস্য ও পরিচিত ইহুদী রাজনীতিবিদ আয়েলেত শেখডের এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে।
প্রেস টিভির ওয়েব সাইটে প্রকাশিত মূল প্রতিবেদনটি যারা পড়তে আগ্রহী তারা এই লিংকে ক্লিক করতে পারেন: http://www.presstv.ir/detail/2014/07/16/371556/israel-must-kill-all-palestinian-mothers/
ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) কেবি





