সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার বিকেল থেকে রাত অবধি বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টগুলোতে আলোচনার মূল কেন্দ্র বিন্দু ছিল এই ন্যাক্কার জনক হামলার ঘটনা। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দল-মত নির্বিশেষে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা।

হামলার প্রতিবাদে ব্রিকলেনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান ফ্রান্স ও ইটালিতে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতায় এ ঘটনার নিন্দা জানান।

এদিকে পৃথক বিবৃতি দিয়ে ন্যাক্কার জনক হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা।

পেশাজীবী নেতারা মনে করেন, এসব ঘটনা আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে নিশ্চিহ্ন হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরী করছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বাহাবা দেয়ারও নিন্দা জানান পেশাজীবী ও আইনজীবী নেতারা।

প্রসঙ্গত, ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগে নামলে সোমবার বিকেলে কাওরান বাজারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা। এতে বেগম জিয়ার গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে যায় এবং তার নিরাপত্তা রক্ষীরা আহত হন।

এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার এক ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপি এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। ইস্ট লন্ডনের ব্রিকলেনের সোনারগাঁও রেস্টুরেন্টে প্রতিবাদসভা শেষে একটি মিছিল বাংলাটাউন প্রদক্ষিণ করে এবং আলতাব আলী পার্কে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, সাবেক আহ্বায়ক এম এ মালেক, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপদেষ্টা মুজিবুর রহমান মুজিব, গোলাম রব্বানী, যুগ্ম সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল, সাদিকমিয়া, তাজউদ্দীন, ইসলামউদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন সেলিম, আজমল হোসেন চৌধুরী জাভেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান, দপ্তরসম্পাদক ড. এম মুজিবুর রহমান, যুবদলের আহ্বায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন, জাসাস সভাপতি এম এ সালাস, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বিএনপি নেতা হেভেন খান, মাওলানা শামীম, যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল বাসিত বাদশা, আবজাল হোসেন, সোয়ালিন করিম চৌধুরী, তরুন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরফু আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, রাজীব আহমেদ প্রমুখ।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতারা বলেন, সরকার নিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে ও খালেদা জিয়াকে হত্যার উদেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। ফ্যাসিবাদী বাকশালের জননী শেখ হাসিনার নির্দেশেই এ হামলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. কে এম এ মালিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ যুক্ত বিবৃতিতে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে পৃথক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ ও সদস্যসচিব সলিসিটর বিপ্লব পোদ্দারসহ সংগঠনটির নেতারা খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার নিন্দা জানান।

তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত হামলার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি, তারা নিশ্চুপ। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তারা এ বিষয়ে সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে।

বিবৃতিদাতা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অন্য নেতারা হলেন- ব্যারিস্টার তমিজউদ্দীন, সলিসিটর একরামুল হক মজুমদার, ব্যারিস্টার আবুল মনসুর মো. শাহজাহান, ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন, ব্যারিস্টার একে এম কামরুজ্জামান, ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন, ব্যারিস্টার হাফিজুরর হমান, অ্যাডভোকেট আবুল হাসনাত, ব্যারিস্টার আবু সালেহ মোহাম্মদ সায়েম, ব্যারিস্টার মুজিবুর রহমান, ব্যারিস্টার এম আশরাফুল আলম চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান, অ্যাডভোকেট নাসের খান অপু, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার একে এম হাসনাত, ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, ব্যারিস্টার শামসুজ্জোহা, অ্যাডভোকেট আলী আকবর কাদের, অ্যাডভোকেট গোলাম জাকারিয়া, অ্যাডভোকেট শিবলি, ব্যারিস্টার সুবহে সাদিক, ব্যারিস্টার ওয়াজেদ মিয়া, ব্যারিস্টার আবু ইলিয়াস, ব্যারিস্টার শহিদুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান পল্লবী, অ্যাডভোকেট নাসরিন আখতার, লিগাল অ্যাডভাইজার কুমকুম আকতার, অ্যাডভোকেট জুয়েল রানা, অ্যাডভোকেট তানজির, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এমকে