চীনে বছরব্যাপী ‘সন্ত্রাস’দমন অভিযানের প্রথম মাসে ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে বলা হয়, প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়াংয়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা হ্রাসে কর্তৃপক্ষ এ অভিযান চালায়।

রাষ্ট্র পরিচালিত চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানায়, জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকির একটি বিপণী বিতানে ভয়াবহ হামলার পর এ অভিযান শুরু করা হয়। এ সময় মোট ৩২টি ‘সহিংস সন্ত্রাসী’চক্রকে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

গত মাসে দুটি যানে দুর্বৃত্তদের হামলায় ৩৯ জন প্রাণ হারায়। ভয়াবহ যে কয়েকটি হামলার জন্য জিনজিংয়াংয়ের জঙ্গিদের দায়ী করা হয়, এটি তার অন্যতম।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম প্রান্তে সন্ত্রাসী হামলার বিস্তার ঘটে। এখানে সরকারি বা নিরাপত্তা কর্মীদের পরিবর্তে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এএফপি’র এক খবরে বলা হয়, উরুমকি মার্কেটে হামলার পরদিন বেইজিং ঘোষণা করে যে ‘সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া হবে।’

এই ঘোষণার অংশ হিসেবেই এক বছরব্যাপী এ অভিযান শুরু হয়েছে। ‘অবৈধ বন্দুক ও বিস্ফোরক তৈরির কারখানা এবং সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবিরেও’অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম দিনের অভিযানে ৩.১৫ টন ওজনের বিস্ফোরকবাহী মোট ২৬৪টি বোমা জব্দ করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ জিনজিংয়াং সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুরদের আবাসভূমি। অঞ্চলটিতে প্রায়ই জাতিগত সহিংসতা দেখা দেয়।

গত সপ্তাহে ‘সন্ত্রাসী হামলার’অভিযোগে চীনে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এছাড়াও তিন জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসী হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মে মাসে জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ ৫৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় শনিবার একদল সন্ত্রাসী হোস্টানের বাইরের একটি এলাকায় পুলিশের একটি ভবনে বিস্ফোরণ ঘটালে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়। সূত্র: বিএসএস

ঢাকা, ২৩ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ